বিকেল ৫টায় সব বন্ধ! অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যে ৫টি অদ্ভুত নিয়মের মুখোমুখি হলেন ভারতীয় মহিলা, জানলে চমকে যাবেন

অন্য দেশে পা রাখলে অনেক সময়ই এমন কিছু সংস্কৃতির মুখোমুখি হতে হয়, যা চেনা জীবনযাত্রার সঙ্গে একদমই মেলে না। দৈনন্দিন রুটিন থেকে শুরু করে অফিসের কালচার—সবকিছুতেই থাকে চমক। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী দিশা শাহ নামের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা তেমনই পাঁচটি ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা রীতিমতো আলোচনার ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই ভিডিওয় তিনি তুলে ধরেছেন ভারতের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার জীবনযাত্রার আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কথা।

১. বিকেল ৫টার মধ্যেই বন্ধ দোকানপাট
তালিকায় সবার প্রথমে রয়েছে কেনাকাটার সময়। ভারতে যখন বড় শহরগুলোর বাজার বা মল রাত পর্যন্ত চনমনে থাকে, অস্ট্রেলিয়ায় ঠিক উল্টো ছবি। দিশা জানান, সেখানে সাধারণত বিকেল ৫টার মধ্যেই সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এ নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ জানিয়েছেন, কিছু সুপারমার্কেট রাত পর্যন্ত খোলা থাকে এবং শপিং সেন্টারগুলো সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিনে (যেমন বৃহস্পতি ও শুক্রবার) কিছুটা দেরিতে বন্ধ হয়।

২. ব্যস্ত রাস্তায় ঘোড়ায় চড়ে পুলিশি টহল
দ্বিতীয় যে বিষয়টি দিশাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো পুলিশি টহল। শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় ঘোড়ায় চড়ে পুলিশকে টহল দিতে দেখা সেখানে অত্যন্ত স্বাভাবিক এক দৃশ্য। দিশা জানিয়েছেন, যতবারই তিনি এই দৃশ্য দেখেন, ততবারই তাঁর অবাক লাগে। প্রসঙ্গত, কমেন্ট বক্সে এক ভারতীয় ব্যবহারকারী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ভারতের তিরুবনন্তপুরমেও মাউন্টেড পুলিশের এই সংস্কৃতি রয়েছে।

৩. ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ নয়, সোজা ধরে ডাকো নামেই!
অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণ ভারতের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে সুপারভাইজার, ডাক্তার, শিক্ষক কিংবা বয়সে বড় কাউকেই ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করার চল নেই। সবাইকেই নাম ধরে ডাকার এই সংস্কৃতি দেখে প্রথমটায় বেশ অস্বস্তিতেই পড়েছিলেন এই প্রবাসী ভারতীয়।

৪. ওভারটাইমে অনীহা, ব্যক্তিগত জীবনকেই কড়া অগ্রাধিকার
অফিসের কাজের ধরনেও রয়েছে বিশাল ফারাক। ভারতে যেখানে অনেক সময়েই দেরী করে অফিস ছাড়াকে কাজের নিষ্ঠা হিসেবে দেখা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় ঠিক উল্টোটা। এখানে অতিরিক্ত সময় কাজ করাকে কোনো গৌরবের বিষয় মনে করা হয় না। বরং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবনকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

৫. নিখুঁত রক্ষণাবেক্ষণের ফ্রি পাবলিক পার্ক
তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে সেদেশের পাবলিক পার্কগুলির পরিকাঠামো। চমৎকার খেলার জায়গা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, হাঁটার চওড়া পথ থেকে শুরু করে ফ্রি বারবিকিউ স্টেশন—সব মিলিয়ে পার্কগুলির যত্ন দেখার মতো। আর সবচেয়ে বড় কথা, এর বেশিরভাগ সুবিধাই সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত।

দিশার এই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পরই তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও মতবিনিময়। প্রবাসে গিয়ে এক সংস্কৃতির সঙ্গে অন্য সংস্কৃতির এই সংঘাত এবং মেলবন্ধনের গল্পই এখন নেটদুনিয়ায় বড় আলোচনার বিষয়বস্তু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *