ভারতের হাতে ১৯০টি পরমাণু অস্ত্র, বাড়ল কতগুলি? জেনেনিন বিস্তারিত

ভারত তার পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে। ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্ট বা এফএএস-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে প্রায় ১৯০টি পরমাণু অস্ত্র। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এর মধ্যে ১৬০টি অস্ত্রই এখন পুরোপুরি সক্রিয় এবং ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। বাকি ৩০টি নতুন ওয়ারহেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরমাণু অস্ত্রের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করে এফএএস। তবে নিয়ম অনুযায়ী, ভারত বা অন্য কোনো দেশ নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করে না। এই তথ্যের শূন্যস্থানই পূরণ করে থাকে এই ধরনের আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কাছে মজুত থাকা ১৯০টি ওয়ারহেডের মধ্যে লঞ্চারের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে ১৬০টি। বাকি ওয়ারহেডগুলি নতুন তৈরি হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলির জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। যার মধ্যে অগ্নি প্রাইম এবং দূরপাল্লার কে-ফোর ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আধুনিক অস্ত্রগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো অব্যবস্থার ফল নয়, বরং এটি পরমাণু নীতিরই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনেক সময় ডেলিভারি সিস্টেম পুরোপুরি পরিষেবাতে আসার আগেই অস্ত্র উৎপাদন চলতে থাকে, যাতে নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ব্যবহার করা যায়।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকটের কথা মাথায় রেখেই ভারত এই কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে লঞ্চার এবং অস্ত্রের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই অতিরিক্ত সংরক্ষণ। ভারতের পরমাণু নীতিতে বরাবরই ‘বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ’ বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত অস্ত্র তৈরির মাধ্যমে মূলত সেই সক্ষমতাই বাড়ানো হচ্ছে।
তবে মনে রাখা দরকার, এই সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণভাবে একটি বহিরাগত সংস্থার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। দেশের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কখনো এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
এই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ালেও ভারত তাদের পুরোনো নীতি অর্থাৎ ‘প্রথমে ব্যবহার না করার’ অবস্থানেই অনড় রয়েছে। অর্থাৎ, শত্রু দেশ আগে আক্রমণ না করলে ভারত নিজে থেকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না। এছাড়া, ১৯৮৮ সালের পর থেকে ভারত কোনো নতুন পরমাণু পরীক্ষাও চালায়নি এবং বর্তমানে পরমাণু পরীক্ষা স্থগিত রাখার নীতিই মেনে চলছে।