ডলারের আধিপত্য শেষ করতে আসছে বড় মোড়! ব্রিক্স সম্মেলনে ভারতের হাতে কীসের চাবিকাঠি তুলে দিচ্ছে বিশ্ব?

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৮তম ব্রিক্স (BRICS) শিখর সম্মেলনের ঐতিহাসিক আয়োজন করতে চলেছে ভারত। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সম্মেলন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতে চিন ও পশ্চিমা শক্তির মাঝে কীভাবে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখবে এবং উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিক্স সম্মেলন?

  • কৌশলগত ভারসাম্য ও বহুমুখী কূটনীতি: কোনো নির্দিষ্ট সামরিক বা আদর্শগত জোটে আবদ্ধ না হয়ে, ভারত যুগপৎভাবে ব্রিক্স, এসসিও (SCO), কোয়াড (Quad) এবং পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। ব্রিক্সের মঞ্চ ব্যবহার করে ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থকে সুনিপুণভাবে সুরক্ষিত করার সুযোগ পাচ্ছে।

  • গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর: উন্নত দেশগুলির বাইরে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব করার এক দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে এই গ্রুপটি। জলবায়ু অর্থায়ন, খাদ্য সুরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে ভারত এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

  • বিকল্প তহবিল ও পরিকাঠামো উন্নয়ন: নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB)-এর মাধ্যমে ভারত তার বিভিন্ন বড় বড় পরিকাঠামো প্রকল্প যেমন মেট্রো রেল ও হাই-স্পিড ট্রেন প্রজেক্টের জন্য বিশাল অংকের আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক গতি আরও দ্রুত হচ্ছে।

ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বড় সুযোগ

বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্রিক্সের পরিধি ক্রমশ বড় হচ্ছে। রাশিয়া, সৌদি আরব এবং ইউএই-র মতো বড় বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলি এই জোটে থাকায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এছাড়াও, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের নিষ্পত্তি (Local Currency Trade Settlement) বা ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (UPI ও ইন্ডিয়া স্ট্যাক) মতো মডেলগুলি ব্রিক্সের অন্যান্য দেশের সামনে তুলে ধরে মার্কিন ডলারের ওপর বিশ্ব অর্থনীতির অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর এক ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে ভারতের সামনে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই ব্রিক্স সভাপতিত্বকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ভারত কেবল কূটনৈতিক দিক থেকেই শক্তিশালী হবে না, বরং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও বহুগুণ মজবুত করে তুলতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *