ধর্মের মাঠে রাজনীতির জোয়ার? মাহেশে মমতার অনুগামীদের সভা নিয়ে যা জানাল আদালত

শুক্রবার হুগলির মাহেশে মমতাপন্থী তৃণমূলের যে সভা হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকালে একক বেঞ্চ এই সভায় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিলেও, সন্ধ্যার মধ্যেই সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক সভার জন্য এমন স্থান নির্বাচন করা উচিত নয় যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি হয়।

মাহেশের ঐতিহাসিক জগন্নাথদেব স্নানপিঁড়ি মাঠেই এই সভা করার পরিকল্পনা করেছিলেন উদ্যোক্তারা। তবে শুরু থেকেই এই স্থান নির্বাচন নিয়ে আপত্তি তোলে রাজ্য প্রশাসন। সরকারের মূল যুক্তি ছিল, এই মাঠটি মূলত ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কাজের জন্যই নির্দিষ্ট। এমনকী মাঠের মালিকপক্ষও আদালতে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তারা রাজনৈতিক কোনও কর্মসূচির জন্য এই চত্বর ব্যবহার করতে দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, রথের মেলা এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের জন্যই এই মাঠের ঐতিহ্য রক্ষা করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ কিছু শর্তের সাপেক্ষে এই সভায় অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায়কে দ্রুত চ্যালেঞ্জ করেন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবাগণনম এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠার পর আদালতের নজর অন্য দিকে ঘুরে যায়।

শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন যে রাজনৈতিক দলগুলির কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকলেও সাধারণ মানুষের সুবিধার দিকটিও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া দরকার। মাঠের মালিকপক্ষের অনীহা এবং রাজ্যের আপত্তির কথা বিবেচনা করে আদালত মমতাপন্থী তৃণমূলকে অবিলম্বে একটি বিকল্প স্থান বেছে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই হস্তক্ষেপে আপাতত মাহেশে নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচিটি স্থগিত হয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *