এসএসসির খাতা নিয়ে বোর্ডের বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত! নম্বর বা ফল নিয়ে সন্তুষ্ট না হলে এবার কী করতে হবে?

চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জ করার পর দুর্দান্ত পরিবর্তন এসেছে ফলাফলে। খাতা পুনরায় নিরীক্ষা বা রি-চেক করার পর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। বৃহস্পতিবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড এই পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করেছে। চলতি বছর রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করায় তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা। কিন্তু এত কিছুর পরও প্রশ্ন থেকে যায়—এই ফলাফলেও যদি কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হন, তবে কি তিনি খাতাটি দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
দ্বিতীয়বার আবেদনের সুযোগ কি আছে?
শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফলেও কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে একই উত্তরপত্র দ্বিতীয়বার দেখার কোনো সুযোগ বা নিয়ম নেই। ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানূ জানান, বোর্ডের নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনেই উত্তরপত্র চার ধাপে মূল্যায়িত হয়—প্রথমে পরীক্ষক, তারপর প্রধান পরীক্ষক, নিরীক্ষক এবং সবশেষে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন পড়লে অন্য একজন পরীক্ষক খাতা দেখেন। ফলে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডের আর কিছু করার থাকে না। বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা জানান, বোর্ডের নিয়ম মেনেই এই স্তরে পৌঁছানোর পর একমাত্র আইনি পথ বা আদালত ছাড়া খাতা পুনরায় দেখার কোনো রাস্তা খোলা থাকে না। কোর্ট থেকে রিট করে নির্দেশ এলে তবেই বোর্ড সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে বাধ্য।
খাতা মূল্যায়নে রেকর্ড আবেদন ও নতুন নীতিমালার ভাবনা
এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও খাতা পুনঃনিরীক্ষার জন্য জমা পড়েছিল রেকর্ড ৪ লাখ ২ হাজার ৫১টি আবেদন। পরীক্ষার্থীরা একাধিক বিষয়ের আবেদন করায় মোট খাতা দেখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার। এত বিপুল পরিমাণ আবেদন দেখে খোদ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে খাতা মূল্যায়ন ও পুনঃপরীক্ষার জন্য একটি নতুন ও কঠোর নীতিমালা তৈরি করা হবে। কোন খাতাগুলো রি-চেক করা হবে এবং খাতা মূল্যায়নকারী শিক্ষকদের জবাবদিহি বা প্রশিক্ষণের বিষয়টিও ওই নীতিমালায় যুক্ত করা হবে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু নীতিমালাই নয়, সার্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির স্থায়ী সংস্কারই এই জটিলতার আসল সমাধান।