মুরগির পা ফেলে দিচ্ছেন? ত্বকের উজ্জ্বলতা থেকে জয়েন্টের ব্যথা নিমেষেই দূর করতে এর জাদুকরী গুণ জানলে চমকে যাবেন!

রান্নাঘরে মুরগির মাংস কাটার পর অনেকেই এর পা বা পচা অংশটি স্রেফ অবহেলায় ফেলে দেন। দেখতে অপ্রীতিকর হওয়ায় কিংবা ঠিকমতো রান্নার পদ্ধতি না জানার কারণে অনেকে এটি মুখেও তুলতে চান না। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, আপনি অজান্তেই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারি একটি উপাদান বাদ দিচ্ছেন। মুরগির পায়ে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টিগুণ, যা নামী দামি সাপ্লিমেন্টেও পাওয়া যায় না। মুরগির পায়ের সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে ত্বক, কার্টিলেজ, টেন্ডন এবং হাড়। এতে থাকা মোট প্রোটিনের প্রায় ৭০ শতাংশই হলো কোলাজেন। কোলাজেন হলো এমন এক ধরনের প্রোটিন যা আমাদের শরীরের ত্বক, পেশী, হাড় এবং জয়েন্টের গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেনের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে ত্বকে বলিরেখা পড়ে এবং জয়েন্টে ব্যথা বা বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয়। নিয়মিত মুরগির পায়ের তৈরি স্যুপ বা ঝোল খেলে শরীরে কোলাজেনের ঘাটতি পূরণ হয়, যা ত্বককে টানটান ও সতেজ রাখতে দারুণ কাজ করে। পাশাপাশি, যাদের হাঁটুতে বা গিঁটে গিঁটে ব্যথার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য মুরগির পা অত্যন্ত উপকারী। এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক কোলাজেন এবং জিলেকটিন জয়েন্টের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। এমনকি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এর কার্যকারিতা রয়েছে। তাই আগামী দিনে রান্নার সময় এই পুষ্টিকর অংশটি ফেলে না দিয়ে সঠিকভাবে রান্না করে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে যাঁদের কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা অতিরিক্ত তেল-মসলা দিয়ে এটি রান্না না করে সেদ্ধ বা স্যুপ হিসেবে খাওয়াটাই শ্রেয়।