লালকেল্লা বিস্ফোরণ কি আত্মঘাতী হামলা ছিল? NIA-র চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর দাবি!

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারী সংস্থার দাখিল করা চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি আত্মঘাতী হামলা ছিল। ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর বিস্ফোরণের সময় অভিযুক্ত উমর উন নবি নিজেই ওই Hyundai i20 গাড়িটি চালাচ্ছিল এবং সে গাড়ির ভিতরেই উপস্থিত ছিল। গাড়ির ভিতর থেকেই বিস্ফোরক যন্ত্র সক্রিয় করার ফলে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া জৈব নমুনার ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ঘটনার সময় উমর উন নবি গাড়িটির ভিতরেই ছিল।
প্রায় দু’বছরের সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র
চার্জশিট অনুযায়ী, এই হামলা আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না। প্রায় দু’বছর ধরে এর পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। গোটা ষড়যন্ত্রের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী উমর উন নবি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার গাজওয়াত উল হিন্দের একটি মডিউলকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাকেই এই হামলার অপারেশনাল ইনচার্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এনআইএ। তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালের গোড়া থেকেই নবি ওই মডিউলকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ধীরে ধীরে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, যেখানে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত ব্যক্তিদের একত্রিত করে দেশজুড়ে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ চালানো যায়।
২০২৩ সাল থেকেই লালকেল্লায় নজর
তদন্তকারীদের দাবি, লালকেল্লাকে হামলার জন্য প্রধান নিশানা হিসেবে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ। উমর উন নবি এবং তার সহযোগীরা একাধিকবার লালকেল্লা এলাকায় গিয়ে রেকি করেছিল। ঐতিহাসিক এই পর্যটনকেন্দ্রকে শুধুমাত্র একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে নয়, বরং ‘ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতীক’ হিসেবে বিবেচনা করেই এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
গ্রেফতারের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি হামলা
এনআইএ-র চার্জশিটে বলা হয়েছে, হামলার জন্য মূলত কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। তবে সেই সময় কাশ্মীরে একের পর এক জঙ্গি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটায় নবির মনে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়। তার মনে হয়েছিল, তাদের এই গোপন ষড়যন্ত্র হয়তো গোয়েন্দা ও তদন্তকারী সংস্থার নজরে চলে এসেছে। এই আশঙ্কার জেরে সে পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ভয়াবহ ফলশ্রুতি ছিল এই বিস্ফোরণ।
গাড়িটিই ব্যবহার করা হয়েছিল বিস্ফোরক বাহক হিসেবে
তদন্তে ব্যবহার করা Hyundai i20 গাড়িটিকে চার্জশিটে একটি বিস্ফোরক বাহক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন রাসায়নিক এবং পরীক্ষাগার-সংক্রান্ত সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনআইএ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে বিস্ফোরক প্রস্তুত ও সংরক্ষণের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। ফরেন্সিক পরীক্ষাতেও বিস্ফোরণস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনায় টিএটিপি (TATP) এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের উপস্থিতির কথা স্পষ্ট বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিস্ফোরক যন্ত্রটি গাড়ির ভিতর থেকেই একটি নির্দিষ্ট কমান্ড মেকানিজমের মাধ্যমে সক্রিয় করা হয়েছিল।
নবির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ
এনআইএ-র চার্জশিটে উমর উন নবির বিরুদ্ধে একাধিক অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মডিউলের তরুণ সদস্যদের উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তার প্রধান ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। গোপন বৈঠকের আয়োজন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, অর্থের জোগান দেওয়া, বেআইনি অস্ত্র সংগ্রহ এবং মডিউলের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় গোপন জায়গার ব্যবস্থা করার সঙ্গেও তার সরাসরি যোগ ছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখার জন্য সিগন্যালের মতো এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত। জম্মু-কাশ্মীর এবং দিল্লি-এনসিআর (NCR)-এর বিভিন্ন গোপন জায়গায় একাধিক বৈঠকও হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।
তবে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার্জশিটে উল্লেখিত এই সমস্ত অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।