ছাদের সোলার প্যানেলই বদলে দিচ্ছে ভাগ্য! প্রধানমন্ত্রী মোদীর মেগা প্রকল্পে রেকর্ড গড়ে চমকে দিল কোন রাজ্য?

চড়া বিদ্যুৎ বিলের জাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে কেন্দ্রের মেগা প্রকল্প ‘পিএম সূর্য ঘর: ফ্রি ইলেকট্রিসিটি যোজনা’। সরকারের এই অভিনব উদ্যোগ দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বিরাট পরিবর্তন এনেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ৫৬ লক্ষেরও বেশি পরিবার তাদের বাড়ির ছাদে সোলার রুফটপ বা সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে ফেলেছে। এর ফলে এই পরিবারগুলির মাসিক বিদ্যুৎ বিল এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। খাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাট একাই এই ক্ষেত্রে এক বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

গুজরাটের ঈর্ষণীয় সাফল্য:
সম্প্রতি ভাদোদরার এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী এই প্রকল্পের আকাশছোঁয়া সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, দেশের মানুষ এখন আর কেবল বিদ্যুতের ভোক্তা বা গ্রাহক হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা নিজেদের বিদ্যুৎ নিজেরাই উৎপাদন করে ‘প্রডিউসার’ বা উৎপাদনে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে গুজরাট রাজ্যে এই প্রকল্পের বিস্তার অভাবনীয়। একার রাজ্যেই প্রায় ১২ লক্ষ পরিবার এই সুবিধার আওতায় এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গুজরাটে ইতিমধ্যেই ৮ লক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র সফলভাবে চালু হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৩,১২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় রাজ্যবাসীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভর্তুকি বাবদ ৬,০৩০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে সরকার।

কমাচ্ছে বিল, তৈরি করছে নতুন কর্মসংস্থান:
এই প্রকল্প শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খরচ বাঁচানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতেও এটি এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সোলার প্যানেল উৎপাদন থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদে তা স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন স্তরে তরুণ প্রজন্মের জন্য অগণিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাজারে বহু নতুন বিক্রেতা ও স্টার্টআপের আবির্ভাব ঘটেছে, যা সরাসরি স্ব-কর্মসংস্থানকে উৎসাহ জোগাচ্ছে।

জাতীয় স্তরে বিশাল বিপ্লব:
জাতীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগ একপ্রকার নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত ৪৬ লক্ষ ৯৪ হাজারের বেশি সোলার ইনস্টলেশন বা স্থাপনা সম্পন্ন হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে ১৬,৫৩০ মেগাওয়াটেরও বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছে। বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে বিদ্যুৎ পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ আর্থিক সাশ্রয়ের মুখ দেখছেন। দেশের শক্তি নিরাপত্তাকে সুদৃঢ় করতে এবং সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এই প্রকল্প আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *