খেলার ছলে জলের বালতিতে মুখ থুবড়ে পড়ল এক বছরের শিশু! মর্মান্তিক পরিণতিতে চোখের জলে ভাসছে পরিবার

ফরিদাবাদের জীবন নগর পার্ট-২ এলাকার ঈদগাহের কাছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মাত্র এক বছর বয়সি এক শিশু। বাড়ির ছাদে খেলার সময় বাথরুমের কাছে রাখা জলভর্তি একটি বালতিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়ে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কিছুটা দেরিতে বিষয়টি বুঝতে পারায় শেষরক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশু আরিয়ানের দিদিমা মীনা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পরিবারের সবাই নিজেদের গৃহকর্মে ব্যস্ত ছিলেন। শিশুটির মা দোতলার ঘরে ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর তার বাবা বজরঙ্গী বাইরে কর্মস্থলে ছিলেন। এই সুযোগেই ছোট্ট আরিয়ান ঘরের বাইরের ছাদে খেলাধুলা করছিল। পরিবারটি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেনি যে চোখের পলকে এমন এক মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে যাবে।
কীভাবে ঘটেছিল এই দুর্ঘটনা?
দিদিমা জানান, খেলতে খেলতে আরিয়ান বাথরুমের কাছে রাখা একটি জলভর্তি বালতির কাছে চলে যায়। সেখানে সে কোনোভাবে ভারসাম্য হারিয়ে বালতির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে যায়। বালতিতে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটি নিজেকে আর টেনে তুলতে পারেনি। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দিদিমা বাইরে গিয়ে দেখেন, শিশুটি জলভর্তি ওই বালতির মধ্যে আষ্টেপৃষ্ঠে পড়ে রয়েছে। এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখে পরিবারের সবার পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তারা সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে জল থেকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছোটছুটি শুরু করেন।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই সব শেষ:
পরিবার প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি দেখে তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। এরপর দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আরিয়ানকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এক বছরের কোলের সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। যে ঘর একসময় শিশুর খিলখিল হাসিতে মুখরিত থাকত, এখন সেখানে কেবল বুকফাটা কান্নার রোল।
সঞ্জয় কলোনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইএসআইসি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। বুধবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি দেশের অভিভাবকদের সামনে শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে ফের এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামান্যতম অসাবধানতা বা নজরদারির অভাবেই যে বড় বিপদ ঘটতে পারে, তা এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো। তাই বাড়ির ছোট শিশুদের নাগালের মধ্যে জলভর্তি বালতি, গামলা বা হাঁড়ি জাতীয় পাত্র খোলা অবস্থায় রাখা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।