বাঘের থাবা থেকে ফিরেও বাঁচলেন না! কুলতুলির মৎস্যজীবীর মহৎ সিদ্ধান্তে নবজীবন পাবে একাধিক রোগী

বাঘের সঙ্গে মৃত্যুর লড়াই লড়েও শেষ রক্ষা হলো না। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের হানায় গুরুতর জখম কুলতুলির মৎস্যজীবী আজিজ মোল্লা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তবে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও এক অনন্য নজির গড়ল তাঁর পরিবার। চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্রেনডেথ হওয়া ওই মৎস্যজীবীর অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন পরিজনেরা। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর এই মহৎ সিদ্ধান্তে আশার আলো দেখছেন একাধিক অঙ্গহানি ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী।
ঠিক কী ঘটেছিল? পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ৩২ বছর বয়সি আজিজ মোল্লা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি কোস্টাল থানার মইপিট এলাকার বাসিন্দা। গত ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) তিনি ৫-৬ জন সঙ্গীর সঙ্গে একটি ট্রলারে করে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। নদীতে জাল নামিয়ে তা তোলার সময় আচমকাই সুন্দরবনের ত্রাস—একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার অতর্কিত হামলা চালায়। বাঘটি আজিজকে জলের টানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গীদের সাহসিকতা ও দ্রুত তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তবে বাঘের নখ ও দাঁতের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন।
এসএসকেএমে আপ্রাণ চেষ্টা, তবুও শেষরক্ষা হয়নি ঘটনার পরই আহত আজিজকে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসালয়ে এবং পরে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এমনকি রাজ্যের বাইরে থেকেও চিকিৎসকরা এসে চেষ্টা চালান। গত দু’দিন ধরে একাধিক শারীরিক পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার চললেও চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার আজিজের ব্রেনডেথ হয়।
পরিবারের মহৎ সিদ্ধান্ত প্রিয়জনকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়লেও হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাউন্সেলিংয়ে সাড়া দেয় আজিজের পরিবার। ব্রেনডেথ হওয়া মৎস্যজীবীর অঙ্গদানের মতো এক দুঃসাহসী ও মহৎ সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সোমবার সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক নিয়মাবলী সম্পন্ন করা হয়। মঙ্গলবার হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঠিক করবেন তাঁর কোন কোন অঙ্গগুলি মুমূর্ষু রোগীদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। সুন্দরবনের বাঘের হানায় মৃত্যুর ঘটনা নতুন না হলেও, এই ট্র্যাজেডির মাঝেও এক মৎস্যজীবীর অঙ্গদানের এই দৃষ্টান্ত বাংলা তথা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল।