হাজার কোটি টাকা চুরি করে বিদেশ পালা এবার অসম্ভব! ব্রিকস সম্মেলনে কোন ঐতিহাসিক ফাঁদ পাতছে ভারত?

ভারতের মাটিতে আয়োজিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসতে চলা এই বিশ্বমঞ্চে ভারতের মূল লক্ষ্য হলো হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০তম বার্ষিকীর এই বিশেষ বৈঠকে ভারত সদস্য দেশগুলির সামনে একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে, যা পলাতক অপরাধীদের সন্ধান ও তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে অভাবনীয় গতি দেবে। বর্তমান আইনি জটিলতার দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে কীভাবে জালিয়াতদের ফাঁদে ফেলা যায়, সেটাই এখন সবথেকে বড় কূটনৈতিক এজেন্ডা।
আইনি মারপ্যাঁচ ও দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার উদ্যোগ
ভারত সরকারের নতুন এই কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ঝটপট গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা। মামলার প্রাথমিক তদন্তের শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে তথ্য শেয়ার করা হবে এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য পোক্ত নিয়মকানুন তৈরি করা হবে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই প্রাথমিক স্তরে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে, যা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ সম্মেলনে পেশ করা হবে।
নীরব মোদী-মেহুল চোকসিদের ফেরানো হবে সহজ
গত কয়েক বছর ধরে ১৩,০০০ কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতিতে অভিযুক্ত নীরব মোদী কিংবা মেহুল চোকসির মতো পলাতকদের ভারত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্রিটেন ও বেলজিয়ামের আদালতে এই সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াকু লড়াই চলছে। অর্থনৈতিক অপরাধগুলি যেহেতু একাধিক দেশের আইন ও সীমান্তের জটিল জালে জড়িয়ে থাকে, তাই এই নতুন কাঠামো চালু হলে তদন্তকারী সংস্থাগুলি শুরু থেকেই একে অপরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে এগোতে পারবে। এর ফলে পলাতকদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বহুলাংশে ত্বরান্বিত হবে।
ডিজিটাল সম্পদ ও ক্রিপ্টোর ওপর কড়া নজরদারি
আধুনিক যুগের অপরাধীরা আইন ও নজরদারি এড়াতে ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম এবং ভার্চুয়াল ডিজিটাল সম্পদ বা ক্রিপ্টোর ওপর ভরসা রাখছে, যা ট্র্যাক বা জব্দ করা তদন্তকারী সংস্থার কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই নতুন কাঠামোয় সেই সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান রাখা হয়েছে। এর আগে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বেরকালেও ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণের বৈশ্বিক মডেলের দাবি জোরালো হয়েছিল।
এদিকে, সম্মেলনের ঠিক প্রাক্কালে ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গান্ধীনগরের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর সহযোগিতায় একটি বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে রাজস্ব বিভাগ। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির নীতিনির্ধারক ও আইন প্রয়োগকারী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আয়োজিত এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্যই হলো আর্থিক অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা।