চিতায় দাহ করার পরেও মিলল না রেহাই! মৃত বৃদ্ধের ছাই খুঁড়ে কৃত্রিম হাঁটু চুরির লোমহর্ষক কাণ্ড

পঞ্জাবের বাথিন্দা জেলার ভাই বখতৌর গ্রামে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর চিতায় ছাই ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ নিয়ে মৃত এক বৃদ্ধের ছাই খুঁড়ে তাঁর দুটি কৃত্রিম হাঁটু চুরি করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ডাক্তার বা ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে ওই হাঁটু বিক্রি করে টাকা কামানোর উদ্দেশ্যেই সে এই অপরাধ করেছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষরক্ষা হয়নি, পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীদের তৎপরতায় হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় ওই অভিযুক্ত।

মৃত ৬৫ বছর বয়সি সৌদাগর সিংয়ের দুই হাঁটুতে কিছু দিন আগেই প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। প্রথা অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পরের দিন সকালে ফুল তোলার অনুষ্ঠান ছিল। তার আগে গ্রামের কয়েকজন যুবক শ্মশানে ছাই ঠান্ডা করার জন্য জল ঢালতে যান। সেই সময় গ্রামেরই অন্য এক যুবককে হাতে লাঠি নিয়ে চিতার ছাই নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। এক গ্রামবাসী কারণ জানতে চাইলে সে নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যায়। কিন্তু পরে সুযোগ বুঝে টাইটানিয়াম বা মূল্যবান ধাতু দিয়ে তৈরি ওই কৃত্রিম হাঁটু দুটি চিতা থেকে তুলে চম্পট দেয় সে।

পরিবারের লোকেরা ছাই সংগ্রহ করতে শ্মশানে পৌঁছে কৃত্রিম হাঁটুর মালাটি দেখতে না পেয়ে হতবাক হয়ে যান। প্রথমে ওঝা বা অন্য কোনো অন্ধবিশ্বাসের কথা মনে এলেও, পরে ওই যুবকের সন্দেহজনক ঘোরাঘুরির কথা জানতে পেরে গ্রামবাসীরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চুরি যাওয়া হাঁটু সহ তাকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে, আর্থিক লাভের আশাতেই সে চিতা থেকে ওই ধাতু সংগ্রহ করেছিল।

মৃতের ছেলে কুলবিন্দর সিং এই ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মৃত মানুষের পবিত্র জিনিসপত্রও এখন অপরাধীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা মহিন্দর সিংয়ের মতে, ওই যুবক নিজে হয়তো জানতও না হাঁটুগুলি কী ধাতু দিয়ে তৈরি বা সেগুলির সঠিক দাম কত, ফলে এর পেছনে কোনো বড় দুষ্কৃতী চক্রের হাত থাকতে পারে। এই ঘটনার পর থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পরেও শ্মশানের ছাই পাহারা দেওয়া নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *