মমতা নাকি ঋতব্রত— আসল তৃণমূল কে? উপনির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে ঘাসফুল প্রতীক কার হাতে যাবে?

আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে রাজ্যের শাসক দল। প্রশ্ন উঠেছে, মমতা শিবির নাকি ঋতব্রত শিবির— ঠিক কে আসল তৃণমূল এবং কাদের হাতে থাকবে ঐতিহ্যবাহী ঘাসফুল প্রতীক? নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দুটি পক্ষই। আগামী ৬ অক্টোবর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সাধারণত নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর দলগুলি প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজেদের প্রতীক রক্ষা করা। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির তাদের অধিকার দাবি করলেও, ঋতব্রত শিবির ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে সমস্ত আইনি নথি ও রেজোলিউশন জমা দিয়ে নিজেদের মূল দল হিসেবে দাবি করেছে। তাদের যুক্তি, দলের সিংহভাগ বিধায়কই তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে মূলত তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কাছেই প্রতীক বহাল থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, কমিশন ঋতব্রত শিবিরকে আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের প্রতীক দিতে পারে। তৃতীয়ত, উভয় পক্ষকেই প্রতীক থেকে বঞ্চিত করে তা স্থগিত বা বাতিল করে দিতে পারে কমিশন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, প্রতীক কে পাবে বা পাবে না, তা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের বিচারাধীন বিষয়। তবে এই বিষয়ে তৃণমূলের উভয় শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।