পরকীয়া সন্দেহের বশে ভয়াবহ কাণ্ড! গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন জামাইয়ের

পরকীয়া সন্দেহের জেরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলা। স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে অন্ধ সন্দেহের বশে মত্ত অবস্থায় গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হয়ে ৬৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ শ্বশুরকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের ছোট মেয়ে তথা অভিযুক্তের শালীও। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত যুবক।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম রামপ্রসাদ। কিছুদিন আগেই কাজের সূত্রে স্ত্রী রেশমিকে নিয়ে মুম্বইয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে রামপ্রসাদের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। মুম্বই থেকে ফিরেও সেই কলহ থামেনি। নিত্যদিনের অশান্তির জেরে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক দিন আগেই বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন রেশমি।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালেও স্ত্রী রেশমির সঙ্গে রামপ্রসাদের তীব্র ঝামেলা হয়। এরপর ঘটনার দিন ভোররাত প্রায় চারটে নাগাদ মত্ত অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন রামপ্রসাদ। সেই সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন তাঁর ৬৫ বছর বয়সি শ্বশুর। অভিযোগ, ঘরে ঢুকে কোনও কথাবার্তা না বলেই কুড়ুল দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন অভিযুক্ত। বৃদ্ধ শ্বশুরের আর্তনাদ শুনে রেশমির বোন ছুটে এলে তাঁর ওপরেও চড়াও হন রামপ্রসাদ। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের তল্লাশি অভিযান

রক্তাক্ত এই ঘটনার পরেই স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন এবং তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হামলার পরেই অভিযুক্ত রামপ্রসাদ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পলাতক ওই যুবকের খোঁজে ইতিমধ্যেই জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে দামোহ জেলার পুলিশ। পরকীয়া সন্দেহের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *