‘আইসিইউ-তে শুয়েও বলতেন আমার কাজের কী হবে!’ স্বামীকে হারিয়ে কীভাবে দিন কাটছে ‘মা মাসি কিচেন’-এর দিদার?

স্বামীর মৃত্যুর পর এই প্রথমবার ভক্তদের সামনে এলেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ‘মা মাসি কিচেন’-এর সকলের প্রিয় দিদা সুমিতা বসু। দীর্ঘ ৪৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে তাঁর স্বামী জ্যোতিপ্রসাদ বসু চিরতরে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন তিনি। ক্যামেরার সামনে স্বামীর শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে বারবার গলা বুজে আসে তাঁর, যা দেখে আবেগে ভাসছেন তাঁর লক্ষ লক্ষ অনুরাগী।
কেমন ছিলেন সুমিতাদেবীর স্বামী?
জ্যোতিপ্রসাদ বসু দীর্ঘদিন ধরে সিওপিডি (COPD) রোগে ভুগছিলেন। ৫ বছর আগে তাঁর অসুস্থতা চরম পর্যায়ে পৌঁছলেও তিনি কখনও মনের জোর হারাননি। ঘরের নানা কাজে তিনি নিয়মিত স্ত্রীকে সাহায্য করতেন। বাইরে যেতে না পারলেও অনলাইনে বাজারের ব্যবস্থা করা কিংবা গ্যাস বুক করার মতো সমস্ত কাজ নিজেই সামলাতেন। সুমিতাদেবী রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকলে তাঁর অর্ধেক কাজ নিপুণ হাতে গুছিয়ে দিয়ে প্রকৃত সঙ্গীর মতো পাশে থাকতেন দাদু।
হাসপাতালের শেষ দিনগুলো
গত ৭ আগস্ট হঠাৎই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। বাইপ্যাপ সাপোর্ট দেওয়ার পরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে দ্রুত নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি স্ত্রীকে নিজের কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৩ আগস্ট তাঁকে ভেন্টিলেশনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
এত বছরের অভ্যস্ত জীবন আর স্বামীর নিখাদ ভালোবাসাকে হারিয়ে আজ বড্ড একা সুমিতাদেবী। তবে স্বামীর শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে এবং তাঁর কথা রেখেই তিনি আবার ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন। এখন তাঁর এই বিশাল সংসার ও মা মাসি কিচেনের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ারদের ভালোবাসাই তাঁর আগামী দিনের পথচলার একমাত্র অবলম্বন।