সারের তীব্র সংকট! ক্ষুব্ধ কৃষকদের সড়ক অবরোধ, গুদাম ভেঙে বস্তা লুটের চাঞ্চল্যকর দৃশ্য!

রোপা আমন চাষের ভরা মৌসুমে সারের তীব্র কৃত্রিম সংকট ও ডিলারের চরম দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল দেশের উত্তরাঞ্চল। সময়মতো সার না পেয়ে এবং চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম পরিমাণ সার দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৃষকরা। রাজশাহী ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ এবং শেষ পর্যন্ত ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার লুটের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে সার লুট
সোমবার সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় বাজারে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কৃষকদের অভিযোগ, ভোররাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সময়মতো সার মেলেনি। ডিলারের লোকজন সার বিতরণে টালবাহানা করায় ধৈর্য হারান প্রায় এক হাজার কৃষক। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে কেউ মাথায় করে, কেউ বা ভ্যানে করে বস্তা বোঝাই সার নিয়ে চম্পট দেন। ডিলারের দাবি, এ সময় প্রায় এক থেকে দেড় শ বস্তা ইউরিয়া সার লুট হয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খায় প্রশাসন।
রাজশাহীতেও চরম বিক্ষোভ ও অবরোধ
একই দিনে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সার কম দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, এক মাস পর সার নিতে গেলে মাত্র ১০ কেজি করে ডিএপি সার দেওয়ার কথা বলা হয়, যা দিয়ে চাষাবাদের কোনো কাজই হয় না। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কালো বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সার বিতরণের পরিমাণ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নেন।
কৃষি কর্মকর্তার অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা
শুধু রৌমারী বা পুঠিয়া নয়, ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী অঞ্চলেও সারের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটছে। ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট এলাকায় চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকরা রাস্তায় আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ দেখান এবং একপর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকেও কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন। লাগাতার এই সার সংকটের জেরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশকে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় পর্যাপ্ত সার থাকার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।