পুজোর আগে চা-বাগানে খুশির জোয়ার! সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বোনাসের কড়া নির্দেশ জারি রাজ্যের!

পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চা-গাছ কিংবা তরাই-ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সবুজ বাগান—বছরভর ঘাম ঝরানো হাজার হাজার চা-শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য শারদোৎসবের আগে এল বড় স্বস্তির বার্তা। উত্তরবঙ্গের পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের সমস্ত চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য শ্রম দফতর। সোমবার শিলিগুড়ির দাগাপুরে অতিরিক্ত শ্রম কমিশনার অমল মজুমদার এই নির্দেশিকা জারি করেন এবং আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত বকেয়া বোনাস মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বাগান মালিকদের কড়া সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
নির্দেশিকার বিশেষ দিক ও ছাড়
পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স মিলিয়ে উত্তরবঙ্গে প্রায় ১১৩টি চা-বাগান রয়েছে, যার মধ্যে শুধু পাহাড়েই রয়েছে ৭৬টি। এ বারের নির্দেশিকায় বোনাসের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। সাধারণত পেমেন্ট অব বোনাস আইনের নির্দিষ্ট বেতনসীমার কারণে কিছু কর্মী বোনাস থেকে বঞ্চিত হন। তবে নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁদের বেতন আইনি সীমা অতিক্রম করেছে, তাঁদেরও নির্দিষ্ট শর্তে বোনাস পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করতে হবে। ফলে দীর্ঘদিনের কর্মী বা মাসিক বেতনভোগী কর্মচারীরাও উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন না।
শ্রমিক সংগঠন ও প্রশাসনের নজরদারি
সরকারি নির্দেশিকা জারি হলেও অতীতে বোনাস নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের টানাপড়েনের অভিজ্ঞতা থেকে এবার কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন শ্রমিক নেতারা। সিটু নেতা সমন পাঠক ও আইএনটিইউসি নেতা অলক চক্রবর্তী সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েও মালিকপক্ষ যাতে ঠিকমতো নির্দেশিকা পালন করে, সে বিষয়ে নজর রাখার কথা বলেছেন। প্রশাসনিক স্তরেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোনাস প্রদান সুনিশ্চিত করতে এবং চা-বলয়ে শিল্পের শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কড়া নজর রাখবে রাজ্যের শ্রম দফতর।