বছরে ৪ বার বদলি! নিচু তলার কর্মচারীদের হুমকির মুখে অবশেষে বিস্ফোরক ক্ষোভ উগড়ে দিলেন আইএএস অফিসার!

এক বছরে চার-চার বার বদলি! ক্রমাগত রদবদলে অতিষ্ঠ হয়ে এ বার প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন মধ্যপ্রদেশের আইএএস অফিসার নেহা মারভিয়া। সরকারি আমলাদের নিজস্ব সমিতি বা ‘আইএএস অ্যাসোসিয়েশন’-কে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে দুই-তিন মাসের মেয়াদে আদৌ কি কাজ করা সম্ভব?
ঠিক কী অভিযোগ আইএএস অফিসারের?
২০১১ ব্যাচের ওই আধিকারিকের আক্ষেপ, নতুন পদের দায়িত্ব বুঝে উঠতে না উঠতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বকেয়া কাজের হিসাব চেয়ে কর্মচারীদের একটি নোটিস পাঠিয়েছিলেন নেহা। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ‘কলম বিরতি’ আন্দোলনে নামেন নিচু তলার কর্মীরা। এর রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁকে মধ্যপ্রদেশ তফশিলী উপজাতি অর্থ ও উন্নয়ন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে বদলি করা হয়।
চিঠিতে নেহা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে লিখেছেন, নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার মাত্র ৫০ দিনের মাথায় ফের তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নিচু তলার কর্মীরা নাকি তাঁর টেবিলে চাপড় মেরে বদলি করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন! নেহার কথায়, “ফাইল আটকে রাখা এবং উশৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে আমি রিপোর্ট দিয়েছিলাম। অথচ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, উল্টে আমাকেই বলির পাঁঠা করা হলো।”
হতাশা এবং দীর্ঘদিনের বিতর্ক
হতাশ আইএএস অফিসার চিঠিতে আরও লিখেছেন, “বছরের পর বছর ধৈর্য ধরে ভেবেছিলাম পরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু এখন কর্মচারীরাও ধমকাচ্ছে। প্রতি বার ওরা জিতে যায়, আর আমি হারি। পুরো ব্যবস্থাটাই আমাকে বারবার হতাশ করেছে।” তবে এই চিঠির বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, নেহা মারভিয়াকে নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দিন্দোরির কালেক্টর পদ থেকে মাত্র আট মাসের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০১৭ সালে শিবপুরীতে গাড়ির বিল মেটানো নিয়ে এবং ২০২২ সালে রাজস্ব বিভাগে যোগ দেওয়ার সময় তৎকালীন প্রধান সচিবের সঙ্গে তাঁর বিরোধের ঘটনা অতীতে সংবাদ শিরোনামে এসেছিল। এই পুরো বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।