সিট মাত্র ৯ হাজার, অথচ ভর্তি হয় সত্তর হাজার পড়ুয়া! দিল্লির বুকে ছাত্রাবাসের এই হাহাকারই কি কেড়ে নিল তরতাজা প্রাণ?

প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুক বেঁধে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে (DU) পড়তে আসেন। কিন্তু অধিকাংশ পড়ুয়ার ভাগেই জোটে না বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হস্টেলের সুবিধা। কলেজগুলিতে সীমিত আসনের প্রাচীর এবং হস্টেলের চরম খরা পড়ুয়াদের বাধ্য করে বেসরকারি পিজি, চড়া ভাড়ার ঘর কিংবা ফ্ল্যাটের ওপর নির্ভর করতে। এর ফলে যেমন একদিকে হু হু করে বাড়তে থাকে পকেটের খরচ, তেমনই অন্যদিকে মাথাচাড়া দেয় নিরাপদ আবাসন নিয়ে গভীর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। দক্ষিণ দিল্লির সত্যনিকেতনে সাম্প্রতিক বহুতল ধসের মর্মান্তিক ঘটনা এই অন্তর্নিহিত সংকটটিকে আবারও এক নির্মম সত্যের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

আসনের পাহাড়প্রমাণ ফারাক: ৭০ হাজার বনাম ৯ হাজার

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ৬৯টিরও বেশি নামী কলেজে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। অথচ সেই তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলির নিজস্ব হস্টেলে মোট আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত—যা মাত্র ৮,০০০ থেকে ৯,০০০-এর কোঠায়। অন্যদিকে, প্রতি বছর শুধুমাত্র আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক কোর্সেই ৭০,০০০-এরও বেশি নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের এই আকাশচুম্বী ফারাকের কারণেই সিংহভাগ ছাত্রছাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যাম্পাসের বাইরে বিপজ্জনক ও অনিরাপদ বেসরকারি আবাসনের ভরসায় দিন কাটাতে হয়।

অনেক কলেজে আজও নেই হস্টেলের মুখদর্শন

সমস্যাটি কেবল আসনের আংশিক স্বল্পতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ডিইউ-এর বহু ঐতিহ্যবাহী কলেজে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের ছাত্রাবাস বা হস্টেলের ন্যূনতম সুবিধাই গড়ে ওঠেনি। শহীদ ভগৎ সিং কলেজ, কলেজ অফ ভোকেশনাল স্টাডিজ, মহারাজা অগ্রসেন কলেজ, শ্যাম লাল কলেজ, পিজিডিএভি কলেজ, সত্যবতী কলেজ, শিবাজি কলেজ, স্বামী শ্রদ্ধানন্দ কলেজ, অদিতি মহাবিদ্যালয় এবং সিস্টার নিবেদিতা কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত মেস বা পেয়িং গেস্ট (PG)-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকতে হয়।

চড়া ভাড়ার পিজি এবং অর্থনৈতিক চাপ

হস্টেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে ছাত্রছাত্রীদের নর্থ ও সাউথ ক্যাম্পাসের আশেপাশে অত্যন্ত চড়া দামে পিজি বা ভাড়া ঘর খুঁজতে হয়। বর্তমানে এই সমস্ত এলাকায় একটি সাধারণ পিজি-র মাসিক ভাড়াই পৌঁছে গেছে ১২,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় খাবার খরচ, বিদ্যুতের বিল এবং অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি ব্যয়। নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের যে সমস্ত মেধাবী শিক্ষার্থী অন্য রাজ্য থেকে রাজধানীতে পড়তে আসেন, এই বিপুল আর্থিক বোঝা তাঁদের পিষে মারে। একদিকে পড়ুয়াদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও সেই অনুপাতে হস্টেল পরিকাঠামো না বাড়ায় দিনের পর দিন গভীর হচ্ছে এই সংকটের জাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *