কেরলে বস্তাবন্দি মা ও ৫ বছরের শিশুর মাথা কাটা দেহ! নৃশংস খুনে কাঠগড়ায় স্বামী, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

কেরলের আট্টাপ্পাডির চিরাক্কাদাভুতে ভবানী নদীর পাড় থেকে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় এক মহিলা ও তাঁর পাঁচ বছরের শিশুর মাথা কাটা দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সি এক মহিলা ও একটি শিশু রয়েছে এবং তাদের দু’জনেরই ধর থেকে মাথা আলাদা করা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জোরালো অনুমান, মৃতরা আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা এবং পারিবারিক বিবাদের জেরে মহিলার স্বামীই এই জোড়া খুনের মূল অভিযুক্ত। ঘটনার পরই অভিযুক্ত ব্যক্তি কেরল থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে গিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই পরিবারটি ঘটনার মাত্র ২০ দিন আগেই কাজের সন্ধানে কেরলে এসেছিল এবং মৃত মহিলা আট্টাপ্পাডি অঞ্চলের স্থানীয় এস্টেটগুলিতে কাজ করতেন। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্টে প্রকাশ, মহিলা ও শিশুটির মাথা কাটার জন্য সম্ভবত কোনো যান্ত্রিক সরঞ্জাম বা বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। অত্যন্ত নৃশংসভাবে দেহগুলির কিছু অংশ কেটে ফেলার পর কোমর বাঁকিয়ে ও হাত-পা বেঁধে প্লাস্টিকে মুড়ে বস্তায় ভরা হয়েছিল।
গত রবিবার বিকেলে নদীর তীরে গবাদি পশু চড়ানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহজনক বস্তাগুলি দেখতে পান এবং তৎক্ষণাৎ পুথুর থানায় খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে পুথুর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩(১) ধারায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে পালাক্কাদ ও আট্টাপ্পাডি এলাকা কিংবা তামিলনাড়ুর সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো মহিলা ও শিশু নিখোঁজ হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে নিখোঁজ সংক্রান্ত রেকর্ডগুলি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কী বলছে পুলিশ প্রশাসন?
পালাক্কাদ-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্তোষ সিআর জানিয়েছেন, সাইবার সেলের সহায়তায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে যে অপরাধ ঘটানোর তিন দিন আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি কেরল ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর মতে, ঘটনার তিন দিন আগে ভবানী নদীতে প্রবল স্রোত থাকার সুযোগ নিয়ে দেহগুলি সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তামিলনাড়ু সীমান্তবর্তী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে ভিন রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
পুলিশের অনুমান, একা কোনো ব্যক্তির পক্ষে এমন নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়, এর নেপথ্যে একাধিক সহযোগী জড়িত থাকতে পারে। সম্ভবত অন্য কোনো গোপন জায়গায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পরে চার-পাঁচ দিন আগে নদীতে দেহগুলি ফেলে দেওয়া হয়। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ত্রিশূর সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল সময় ও আরও জোরালো প্রমাণ মিলবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা। আগালি ডেপুটি এসপি আর অশোকনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই মুহূর্তে গোটা ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।