জোড়া ফলায় ভাসবে বাংলা! ভারী বৃষ্টির লাল চোখ এড়িয়ে আজ থেকে কোথায় কোথায় শুরু দুর্যোগ?

রাজ্যে ফের একবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে গভীর নিম্নচাপ। তার সঙ্গে দোসর হয়েছে মৌসুমী অক্ষরেখা। এই দুইয়ের জোড়া ফলায় এবার উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—পুরো বাংলাই ভাসতে চলেছে বৃষ্টির জলে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আজ থেকেই গোটা রাজ্য জুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা।

৬ জেলায় কমলা সতর্কতা ও অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা সহ গোটা বঙ্গে। বিশেষ করে ৬টি জেলায় আবহাওয়া দফতর কমলা সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোমবারের আবহাওয়া: আজ সোমবার বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সবথেকে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই দুই জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ঝড়বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের দুর্যোগ: মঙ্গলবারেও বঙ্গে দুর্যোগের হাতছানি কাটছে না। বিশেষ করে দুই বর্ধমান, বীরভূম, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

বুধবারেও ভিজবে বঙ্গে: আলিপুর হাওয়া অফিসের আপডেট অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টি চলবে। তবে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার জন্য আলাদা করে সতর্কতা রাখা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি: অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি চলবে। এমনকি আগামী সপ্তাহের শেষদিকে, অর্থাৎ শুক্র থেকে রবিবারের মধ্যে ওই দুই জেলায় ফের নতুন করে সতর্কতা জারির সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আপাতত খুব বেশি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। গাঙ্গেয় উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সঙ্গে ভ্যাপসা গরমই মূলত সঙ্গী হতে পারে। তবে তিলোত্তমা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ থাকবে ৮০ থেকে ৮৬ শতাংশের মধ্যে, যা অস্বস্তি বজায় রাখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *