প্যান্ডেল হপিং হবে আরও সহজ! মোবাইলেই মিলবে খড়্গপুরের পুজোর ডিজিটাল রোডম্যাপ

দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। উৎসবের মরশুমে শহরের রাজপথে মানুষের ঢল নামার আগেই সাধারণ দর্শনার্থীদের সর্বাঙ্গীন সুবিধা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার কোণঠাসা হয়ে কোমর বেঁধে আসরে নামল প্রশাসন। খড়্গপুর শহরে পুজোর প্রস্তুতিতে এবার ট্র্যাডিশন ভেঙে প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে কোনো ধরনের বিপত্তির মুখে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যেই একাধিক অভিনব ডিজিটাল পরিষেবা নিয়ে হাজির হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।
ফোনেই মিলবে পুজোর সম্পূর্ণ গাইড ম্যাপ
রবিবার খড়্গপুর আইআইটির নেতাজি ইন্ডোর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে শহরের দুর্গাপুজোগুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি আধুনিক গাইড ম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে আরও নিখুঁত ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে পুজো কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ আলোচনাও হয়েছে এদিন। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ।
এবারের পুজোয় গাইড ম্যাপের ক্ষেত্রে গতানুগতিক কাগজের ব্যবহার বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থাকে সামনে আনা হয়েছে। ম্যাপে থাকা একটি বিশেষ কিউআর (QR) কোড মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করলেই দর্শনার্থীরা প্যান্ডেলের অবস্থান সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবেন। ফলে অপরিচিত কোনো এলাকায় গিয়ে নির্দিষ্ট মণ্ডপ খুঁজে বের করতে আর বেগ পেতে হবে না, যা পুজোর উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে বিশেষভাবে সহায়ক হবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
নিরাপত্তায় ‘প্রত্যাশা’ ও জিপিএস প্রযুক্তি
শুধু মণ্ডপে পৌঁছনোর সহজ রাস্তা নয়, উৎসবের দিনগুলিতে বিভিন্ন বয়সি মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক দর্শনার্থীদের কথা ভেবে চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর—‘প্রত্যাশা’। কোনো প্রবীণ মানুষ আকস্মিক সমস্যায় পড়লে 9147079৩৮৫ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করে পুলিশের সাহায্য চাইতে পারবেন। পাশাপাশি, কচিকাঁচাদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ‘চিলড্রেন আইডেন্টিটি কার্ড’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুজো চলাকালীন সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে জিপিএস (GPS) প্রযুক্তিনির্ভর ‘সুরক্ষা’ ব্যবস্থাও চালু করেছে পুলিশ।
পরিবেশ সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর
পুজো মানেই যেমন উপচে পড়া আনন্দ ও জনস্রোত, তেমনই বিপুল মানুষের সমাগমে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও থাকে। তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও এবারের প্রশাসনিক পরিকল্পনায় সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘দুর্গাপুজোকে সর্বতোভাবে সুরক্ষিত ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এবার খড়্গপুর শহর সারা পশ্চিমবঙ্গের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। পরিবেশ রক্ষার্থে মণ্ডপের প্লাস্টিক বর্জ্য বা পুজোর জৈব সামগ্রী যত্রতত্র কিংবা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। এগুলি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকরণ বা ডাম্পিং জোনে ফেলার ওপর আমরা কঠোর জোর দিচ্ছি।’’
সবমিলিয়ে, পুজো শুরুর আগেই খড়্গপুর শহরবাসীর নিরাপত্তায় যেভাবে প্রযুক্তির হাত ধরে ঢেলে সাজানো হয়েছে, তাতে উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের স্বস্তি যে অনেকটাই বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।