৫ বছর নয়, মাত্র ১ বছর কাজ করলেই মিলবে গ্র্যাচুইটির টাকা! নতুন লেবার কোডে বিরাট বদল এল

দেশজুড়ে কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা মজবুত করতে ও সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে নতুন শ্রম কোডে গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত বিধিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক ও তরুণ কর্মীরা দারুণ সুবিধা পেতে চলেছেন।

চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তিভিত্তিক বা নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্মচারীদের আর দীর্ঘ ৫ বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। তাঁরা এখন থেকে সংস্থায় টানা এক বছর কাজ পূর্ণ করলেই আনুপাতিক বা প্রো-রাটা ভিত্তিতে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার অধিকার অর্জন করবেন।

অন্যদিকে, মূল বা স্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ বছর চাকরির পূর্বশর্তই আগের মতো বহাল রয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী কর্মীদের কোনও একটি সংস্থায় টানা পাঁচ বছর কাজ করার পরই গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার নিয়ম বজায় থাকছে। আগে পাঁচ বছরের কম চাকরিতে গ্র্যাচুইটির তহবিল হাতছাড়া হলেও, এখন চাকরি পরিবর্তন করলেও এক বছরের পরিশ্রমের ভিত্তিতে পাওনা বুঝে নিতে পারবেন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা।

গ্র্যাচুইটি আটকে যাওয়ার বা কাটার নিয়ম
পেমেন্ট অফ গ্র্যাচুইটি আইন অনুযায়ী, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মীর পাওনা আটকানোর কোনও আইনি অধিকার কর্তৃপক্ষের নেই। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই টাকা আটকে দেওয়া বা কাটার সুযোগ রয়েছে:

কোন কারণে টাকা আটকাবে: শারীরিক আক্রমণ, গালিগালাজ, হুমকি, যৌন হেনস্থা বা এই জাতীয় নীতিগুলির গুরুতর লঙ্ঘন ঘটলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে গ্র্যাচুইটি আটকে দেওয়া যেতে পারে।

আর্থিক ক্ষতির ক্ষেত্রে কর্তন: কোনও কর্মীর গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত ভুলে সংস্থার বড় আর্থিক ক্ষতি হলে, সেই ক্ষতি মেটাতে গ্র্যাচুইটি থেকে প্রয়োজনীয় অংশ কেটে নেওয়ার আইনি সুযোগ সংস্থার রয়েছে।

জালিয়াতি বা চুরিতে সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত: জালিয়াতি, ঘুষ, নথি জালিয়াতি, চুরি বা আর্থিক তছরুপে দোষী সাব্যস্ত হলে সংস্থা সংশ্লিষ্ট কর্মীর সম্পূর্ণ গ্র্যাচুইটি বাজেয়াপ্ত করতে পারে।

তবে আইন অনুযায়ী, কোনও অভিযোগ থাকলেও সংস্থা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া একতরফাভাবে টাকা আটকাতে পারবে না। টাকা কাটার আগে লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করে কর্মীকে নির্দোষিতা প্রমাণের সুযোগ দিতে হবে। মূল ক্ষতির বাইরে অতিরিক্ত টাকা কাটা যাবে না এবং অবশিষ্ট গ্র্যাচুইটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া সংস্থার আইনি বাধ্যবাধকতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *