ভোরের আলো ফোটার আগেই শুটিং সেটে একা বসে উত্তম! কী এমন ঘটেছিল সেদিন?

তারকসুলভ অহংকার বা খ্যাতির মোমবাতি তাঁকে কখনই গ্রাস করতে পারেনি। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘মহানায়ক’ উত্তমকুমার কেবল এক প্রতিভাবান অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অনন্য বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্বের মূর্ত প্রতীক। প্রয়াণের দীর্ঘ চার দশক পরেও বাঙালি মানসে তাঁর আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি। তরুণকুমারের লেখা ‘উত্তম চরিত’ বইয়ের পাতা উল্টালে আজও তাঁর জীবনের এমন কিছু অজানা ও চমকপ্রদ অধ্যায় সামনে আসে, যা শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।

‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ ছবির শুটিংয়ের সময়কার এক ঘটনার কথা স্মরণ করা যাক। দীঘার সেই শুটিংয়ে পরিচালক বিকাশ রায়কে অবাক করে দিয়ে ভোর পাঁচটার কলটাইমের আধ ঘণ্টা আগেই সেটে হাজির হয়ে একা বসে ধূমপান করছিলেন উত্তমকুমার। বিকাশ রায়কে অবাক হতে দেখে তিনি বলেছিলেন, ভোরের শট মিস হলে প্রোডাকশনের অপচয় হবে, তাই এই সতর্কতা। শুধু তাই নয়, ইউনিটের কেউ তাঁকে এক গ্লাস চা দেওয়ার সৌজন্যটুকুও না দেখালেও পরিচালক রেগে যাওয়ার উপক্রম করতেই তাঁকে শান্ত করেছিলেন মহানায়ক স্বয়ং।

এমনই আরেকটি অবিশ্বাস্য ঘটনার কথা জানিয়েছেন পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়। পুজোর পর টালিগঞ্জের নানুবাবুর বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ তাঁর সামনে গাড়ি থামান উত্তমকুমার। গাড়ি থেকে নেমেই পরিচালকের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে তিনি বলেন, বিজয়ার প্রণামটা রাস্তাতেই সেরে নিলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে চোখের পলকে গাড়ি নিয়ে তিনি চলে গেলেও সেই দৃশ্য চাক্ষুষ করা সাধারণ মানুষের চোখ তখন ছানাবড়া! পরিচালককে সেদিন অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারেননি যে ইনি সত্যিই উত্তমকুমার। আর এই বিনয়, কাজের প্রতি চরম নিষ্ঠা এবং মাটি কামড়ে পড়ে থাকার জেদই উত্তমকুমারকে চিরকালের মতো বাঙালির হৃদয়ে ‘মহানায়ক’ করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *