“হাড় জোড়া লাগলেও স্বপ্ন কি ফিরবে?” পুলিশের গুলিতে তরুণের ভবিষ্যৎ শেষ হতেই মোদি-সম্রাটকে নিশানা রাহুলের

চাকরি ও স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর পুলিশি হামলা এবং নির্বিচারে বলপ্রয়োগের ঘটনায় তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে সরাসরি নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, আন্দোলনকারীদের ভাঙা হাড় এক দিন জোড়া লাগলেও তাঁদের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন কি সরকার ফিরিয়ে দিতে পারবে?

সম্প্রতি বিহারের নির্যাতিত পড়ুয়া এবং চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন রাহুল। তাঁর দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়া পড়ুয়ারা কেউ অপরাধী ছিলেন না। তাঁরা এসেছিলেন সাধারণ ও আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে। ভালো চাকরি বা পরিবারের আর্থিক অবস্থা বদলানোর লক্ষ্য নিয়ে পথে নামলেও পুলিশের গুলিতে তাঁদের সেই স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে গিয়েছে।

বিশেষ করে এক পড়ুয়ার পায়ে AK-47-এর রাইফেল থেকে গুলি লাগার প্রসঙ্গ টেনেছেন কংগ্রেস নেতা। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশসেবা করার যে স্বপ্ন ওই তরুণের ছিল, তা কার্যত ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। গুলিতে আরও দুই পড়ুয়া কাঁধে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন বলেও তিনি জানান। রাহুলের বক্তব্য, লাঠি বা গুলির শারীরিক ক্ষত এক দিন সেরে যাবে, কিন্তু তরুণের মনে যে ভয় গেঁথে গিয়েছে তার চিকিৎসা কোথায়? নিম্নপদস্থ কিছু আধিকারিকের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে সরকার এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত অগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে শিক্ষক নিয়োগে একক স্তরের পরীক্ষা এবং স্বচ্ছতার দাবিতে পটনায় রাস্তায় নেমেছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরে এই আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থন জুগিয়ে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিরোধী শিবিরও পাশে দাঁড়ায়। পুলিশি দমনপীড়নের এই ঘটনায় প্রশাসন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *