“ইরান যদি আমাদের জাহাজে হামলা করে…?”-তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি আমেরিকার

ইরান যদি পুনরায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে দেশটির তেলের সমস্ত ট্যাংকার চিরতরে ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেওয়া হবে—এমনই এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেটে হেগসেথ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর সংঘাত আচমকাই চরমে পৌঁছানোর পর বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড ‘সেন্টকম’ জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজে সরাসরি হামলা চালিয়েছিল ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। সেই হামলার কঠোর পাল্টা জবাব হিসেবেই মার্কিন বাহিনী শনিবার ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে সেগুলিকে পুরোপুরি বিকল করে দিয়েছে।

কী বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী?

সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেটে হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, “বিষয়টি খুবই সহজ: যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায়, তবে আমরা তাদের তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেব। তাদের বাঁচার একমাত্র উপায় হলো আমাদের জাহাজে হামলা না চালানো।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারের বহর বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ইরানের পর্যাপ্ত আধুনিক নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই, অথচ আমেরিকার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ এবং পরমাণু সাবমেরিনগুলির পক্ষে তাদের প্রতিটি তেল ট্যাংকারে নিমেষে হামলা চালানো সম্ভব।

কোথায় কোথায় হামলা চালাল আমেরিকা?

সেন্টকম সূত্রে প্রকাশ, মার্কিন সামরিক বাহিনী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থানরত ‘এমটি ডউনি’ এবং ওমানের জাস্ক উপকূলের কাছাকাছি থাকা ‘এমটি স্টার্ক ১’ নামক দুটি বিশাল তেল ট্যাংকারে সরাসরি হামলা চালানো হয়। মার্কিন গোলায় ট্যাংকার দুটি স্থায়ীভাবে বিকল হয়ে গেছে।

এরপর ওমান উপসাগরে অবস্থানরত ইরানের আরেকটি তেল ট্যাংকার ‘এমটি কায়লো’-র ওপরেও আক্রমণ চালায় মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম জানিয়েছে, ওই ট্যাংকারের ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হামলার আগে মাত্র কয়েক মিনিটের সময় দিয়ে তাদের জাহাজ ছেড়ে সরে যেতে বলা হয়। এরপর সেটিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হলে ট্যাংকারটি চলাচলের পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *