ব্রেক চাপলেই অটোমটিক তৈরি হয় বিদ্যুৎ! কীভাবে কাজ করে বন্দে ভারতের অত্যাধুনিক সিস্টেম?

দেশজুড়ে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে ভারতীয় রেলের বিকল্প আজও কিছু হতে পারে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিশাল নেটওয়ার্ক যেমন আধুনিক হচ্ছে, তেমনই যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ট্রেনের পরিকাঠামোয় আসছে আমূল পরিবর্তন। সেই তালিকার অন্যতম সেরা সংযোজন হলো সুপারফাস্ট বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। আধুনিক লুক, বিশ্বমানের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং দুর্দান্ত গতির জন্য এই ট্রেনটি দেশের অন্যান্য প্রিমিয়াম ট্রেনকে সহজেই টেক্কা দিচ্ছে। তবে বন্দে ভারতের এই জনপ্রিয়তার নেপথ্যে রয়েছে এর অত্যন্ত উন্নত ও অনন্য প্রযুক্তি, যার মধ্যে সবচেয়ে তাক লাগানোর মতো বিষয় হলো এর ব্রেকিং সিস্টেম।
কীভাবে কাজ করে বন্দে ভারতের ব্রেক?
সাধারণ ট্রেনের ব্রেকিং সিস্টেমের সঙ্গে বন্দে ভারতের ব্যবস্থার কোনো মিল নেই। এটি অনেকটাই আধুনিক গাড়ির মতো কাজ করে। এই ট্রেনগুলিতে বিশেষ ধরনের ‘ইলেক্ট্রো-নিউম্যাটিক ডিস্ক ব্রেক’ ব্যবহার করা হয়। ট্রেনের এই ব্রেকগুলি প্রথাগত ট্রেনের মতো চাকার ঠিক গায়ে না থেকে, চাকার পাশেই সুনির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে।
যেহেতু বন্দে ভারতের এই ব্রেকিং সিস্টেম সম্পূর্ণভাবে বৈদ্যুতিকভাবে সঞ্চারিত, তাই এটি সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেক দ্রুত কাজ করে। চালক ব্রেক কষার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিমেষে কার্যকর হয়। আদতে এই পুরো সিস্টেমটি ডিস্ক ও ড্রাম ব্রেকযুক্ত একটি হাই-টেক গাড়ির মতোই নিখুঁতভাবে কাজ করে। আর সেই কারণেই এই ট্রেনগুলি সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত।
জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করে এই সিস্টেম?
যেকোনো অপ্রীতিকর বা জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনটিকে দ্রুত থামানোর জন্য বন্দে ভারতে অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটি আধুনিক গাড়ির মতো ‘ইমার্জেন্সি ব্রেকিং ডিসটেন্স’ বা ইবিডি (EBD) প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত। এই বিশেষ ব্যবস্থাটি বড় ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই যেকোনো মুহূর্তে দ্রুতগতির ট্রেনকে মসৃণভাবে থামিয়ে দিতে সক্ষম। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, কোনো ধরনের বড় ঝাঁকুনি বা ক্ষতি ছাড়াই ট্রেনটি অত্যন্ত সুচারুভাবে থেমে যায়। যদিও যাত্রীবাহী ট্রেনে এই নির্দিষ্ট আপগ্রেডেড প্রযুক্তিটি এখনও পুরোপুরি প্রয়োগ করা হয়নি, তবে এর কার্যকারিতা বিশেষজ্ঞদের দারুণভাবে নজর কেড়েছে।
ব্রেক কষলেই উৎপন্ন হয় বিদ্যুৎ!
বন্দে ভারতের প্রযুক্তির সবচেয়ে অভিনব দিকটি হলো এর রিজেনারেটিভ ব্রেকিং পদ্ধতি। যখন কোনো ট্রেন অত্যন্ত হাই স্পিডে ছোটে এবং হঠাৎ ব্রেক কষা হয়, তখন ট্রেনের বিশাল গতিশক্তি সাধারণত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বন্দে ভারতের ক্ষেত্রে ব্রেক কষার সময় এর বৈদ্যুতিক মোটরটিকে জেনারেটর হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
এই প্রক্রিয়ায় ট্রেনের চলন্ত চাকাগুলি মোটরটিকে ঘোরাতে শুরু করে, যার ফলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন হওয়া এই বাড়তি বিদ্যুৎশক্তি পুনরায় রেলওয়ের নিজস্ব ইলেকট্রিসিটি গ্রিডে ফিরিয়ে দেওয়া হয় অথবা ট্রেনের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। শক্তি অপচয় রোধের এই দুর্দান্ত প্রযুক্তিই বন্দে ভারতকে বাকি সব ট্রেন থেকে এক আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।