গণপতিকে কেন অবশ্যই চড়াবেন ২১টি দূর্বা? জানুন এর পেছনের রহস্যময় ও চমকপ্রদ পৌরাণিক কাহিনী!

চলতি বছর আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার মহাসমারোহে পালিত হতে চলেছে গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi 2026)। ঘরে ঘরে ও প্যান্ডেলে শুরু হয়ে গিয়েছে বপ্পাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। বিঘ্নহর্তার পুজোয় নানা রকমের ফুল, ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হলেও, একটি বিশেষ উপাদান ছাড়া গণেশ পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়— আর তা হলো ‘দূর্বা ঘাস’। কিন্তু কৌতূহলের বিষয় হলো, সাধারণ এই দূর্বা বা দুব ঘাস কেন এত প্রিয় গণপতির? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক রোমাঞ্চকর পৌরাণিক ইতিহাস।
কেন গণেশকে দূর্বা অর্পণ করা হয়?
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, প্রাচীনকালে ‘অনলাসুর’ নামক এক শক্তিশালী অসুর নিজের অগ্নির মতো তেজ দিয়ে দেবজাতি ও ঋষিদের প্রচণ্ড অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তখন দেবতাদের রক্ষার্থে ভগবান গণেশ সেই অসুরকে জীবন্ত গিলে ফেলেন। কিন্তু অসুরকে পেটস্থ করার পর বপ্পার শরীরে চরম জ্বালা ও তীব্র উষ্ণতা সৃষ্টি হয়। তখন সমস্ত ঋষিরা মিলে তাঁর শরীরের এই তীব্র কষ্ট দূর করতে তাঁকে দূর্বা ঘাস অর্পণ করেন। দূর্বা গ্রহণের পরেই গণেশের শরীরের জ্বালা জুড়ায় এবং তিনি আরাম পান। সেই থেকেই ভগবান গণেশকে দূর্বা নিবেদনের এই বিশেষ প্রথা চলে আসছে।
২১ সংখ্যাটির রহস্য ও ধর্মীয় তাৎপর্য
গণেশ পুজোয় বিশেষ করে ২১টি দূর্বার গাঁঠ বা মুঠি অর্পণ করার নিয়ম রয়েছে। সনাতন ধর্মে ‘২১’ সংখ্যাটিকে অত্যন্ত পবিত্র ও পূর্ণতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষের ৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়, ৫টি কর্মেন্দ্রিয়, ৫টি প্রাণ, ৫টি সূক্ষ্ম উপাদান (পঞ্চতত্ত্ব) এবং মন— এই মোট ২১টি তত্ত্ব রয়েছে। ভগবান গণেশকে ২১টি দূর্বা অর্পণ করার অর্থ হলো, মানুষের এই সমস্ত সত্ত্বা ও ইন্দ্রিয়কে বপ্পার চরণে সমর্পণ করা।
আসন্ন গণেশ চতুর্থীতে সঠিক নিয়ম মেনে বপ্পার পুজো করুন এবং এই বিশেষ প্রতিকারে জীবনের সমস্ত বাধা ও বিপদ দূর করুন।