Recipe: নিরামিষ পেঁপে-আলু বড়ির ঝোল, শিখেনিন মেদিনীপুরের সহজ রান্না

খুব সাধারণ কিছু উপাদান দিয়েই যদি একদম সুস্বাদু এবং ঘরোয়া একটি পদ বানিয়ে ফেলতে চান, তা হলে পেঁপে-আলু বড়ির ঝোল রান্না করে দেখতে পারেন। মেদিনীপুরের গ্রামবাংলায় এই ধরনের সুস্বাদু নিরামিষ রান্নার চল বহু যুগ ধরে চলে আসছে। এই রান্নার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে উপকরণের প্রয়োজন হয় খুবই কম এবং খরচও হয় নামমাত্র। কিন্তু দুপুরবেলা গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে এই পদের স্বাদ একেবারেই অন্য মাত্রার। শুধু ভাতই নয়, সকাল বা বিকালের টিফিনে গরম রুটি কিংবা পরোটার সঙ্গেও এটি খেতে দারুণ লাগে।

কাঁচা পেঁপে, আলু আর ডালের বড়ি—এই তিনটি সাধারণ উপকরণই হলো এই রান্নার মূল আকর্ষণ। তার সঙ্গে হাতের কাছে থাকা সামান্য কিছু মশলা দিয়েই তৈরি হয়ে যায় অনবদ্য স্বাদের এই ঘরোয়া নিরামিষ তরকারি। এই রান্নায় ঝোল একটু পাতলা রাখা যেতে পারে, আবার চাইলে মশলা কষে একটু মাখা মাখা বা ঘন করেও রান্না করা যায়। বিশেষ করে যাঁরা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলেন এবং হালকা অথচ সুস্বাদু খাবার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি সহজেই প্রতিদিনের তালিকার অন্যতম পছন্দের পদ হয়ে উঠতে পারে।

কী কী লাগবে? এই সুস্বাদু রান্নাটি করার জন্য প্রয়োজন কাঁচা পেঁপে, আলু এবং ডালের বড়ি। এ ছাড়া লাগবে সর্ষের তেল, হলুদ গুঁড়ো, নুন, গোটা জিরে, আদা বাটা এবং সামান্য জিরে গুঁড়ো। ঝালের পরিমাণ বুঝে কাঁচালঙ্কা ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নার স্বাদ সামান্য ভারসাম্যে আনতে ব্যবহার করা যেতে পারে সামান্য একটু চিনি।

রান্নার সহজ পদ্ধতি প্রথমে কাঁচা পেঁপে এবং আলুর খোসা ছাড়িয়ে মাঝারি আকারের টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এরপর ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। এবার কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তাতে প্রথমে ডালের বড়িগুলি হালকা লালচে করে ভেজে তুলে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে বড়ি যেন পুড়ে না যায়।

এর পরে ওই তেলেই টুকরো করা আলু দিয়ে সামান্য নুন ও হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে হালকা ভেজে নিতে হবে। আলু সামান্য ভাজা হয়ে গেলে পেঁপের টুকরোগুলোও কড়াইতে ঢেলে দিতে হবে। এরপর কড়াইতে জিরে ফোড়ন দিয়ে সঙ্গে কাঁচালঙ্কা ও আদা বাটা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। তারপর হলুদ, জিরে গুঁড়ো এবং প্রয়োজনমতো নুন দিয়ে মশলাটি ভালোভাবে নাড়তে হবে, যাতে মশলা কড়াইয়ের তলায় লেগে না যায়।

পেঁপে এবং আলু মশলার সঙ্গে ভালোভাবে মিশে গেলে পরিমাণমতো জল দিতে হবে। এরপর কড়াই ঢেকে রান্না হতে দিতে হবে। পেঁপে এবং আলু সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে এলে আগে থেকে ভেজে রাখা বড়িগুলি ঝোলে মিশিয়ে দিতে হবে। তবে বড়ি দেওয়ার পরে খুব বেশি সময় ফোটানোর প্রয়োজন নেই, কারণ বেশি ফুটলে বড়ি গলে যেতে পারে। নামানোর আগে ঝোলের স্বাদ ঠিক রাখতে সামান্য জিরে গুঁড়ো এবং এক চিমটি চিনি ছড়িয়ে নামিয়ে নিলেই তৈরি পেঁপে-আলু বড়ির দুর্দান্ত ঝোল। গ্রাম বাংলার সনাতন রান্নার এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ যে কাউকে নস্টালজিক করে তুলতে বাধ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *