ছাদ-উঠোনের কালো শ্যাওলা উঠবে এক নিমেষে, রান্নাঘরের এই জিনিস করুন ব্যবহার

রবি ঘোষের ‘গল্প হলেও সত্যি’ ছবির সেই বিখ্যাত দৃশ্যটি নিশ্চয়ই অনেকেরই মনে আছে? শ্যাওলায় পিচ্ছিল হয়ে থাকা উঠোন। সেখানে হাঁটতে গেলেই পা পিছলে যাওয়ার চরম ভয়। আর সেই সমস্যা মেটাতে নারকেলের মালা দিয়ে মাটি ও উঠোন ঘষে পরিষ্কার করে ফেলেছিলেন ধনঞ্জয়। সিনেমার সেই দৃশ্য আজও বাঙালির মনে চিরসবুজ হয়ে রয়েছে। চলচ্চিত্রে যেমন খুব সহজে সেই সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনই বাস্তবেও কিন্তু বাড়ির ছাদ, সিঁড়ি বা উঠোনের জেদি শ্যাওলা পরিষ্কার করার দারুণ ও সহজ কিছু বৈজ্ঞানিক ও ঘরোয়া উপায় রয়েছে।

বর্ষাকালে বাড়ির ছাদ, সিঁড়ি কিংবা উঠোনের কোণে কোণে কালো-সবুজ ছোপ দেখা দেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। অনেক জায়গায় আবার পুরো মেঝেটাই শ্যাওলায় পিচ্ছিল হয়ে যায়। বিশেষ করে যে সমস্ত জায়গায় দীর্ঘ সময় জল জমে থাকে কিংবা সূর্যের আলো কম পৌঁছয়, সেখানে শ্যাওলা খুব দ্রুত বাড়ে। এটি দেখতে যেমন অত্যন্ত খারাপ লাগে, তেমনই এই পিচ্ছিল শ্যাওলার আস্তরণে পা পিছলে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। এর ফলে বাড়ির ছাদেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাই সামান্য শ্যাওলা দেখা দিলেই তা দ্রুত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। তবে তার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বসে শুধু ঘষাঘষি করার কোনো প্রয়োজন নেই।

প্রথমে যতটা সম্ভব শ্যাওলা তুলে নিন শ্যাওলা যদি মেঝেতে বেশ মোটা আস্তরণ তৈরি করে থাকে, তবে প্রথমে একটি শক্ত ব্রাশ দিয়ে উপরিভাগের জমাট অংশটি তুলে ফেলার চেষ্টা করুন। তবে খুব জোরে ঘষে কংক্রিটের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। যতটা সহজে উঠে আসে, ঠিক ততটাই তুলে নিন। এরপর গোটা জায়গাটি ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে সমস্ত আলগা ময়লা ও শ্যাওলার অবশিষ্টাংশ সরে যাবে।

এর পর জেদি শ্যাওলা তোলার পালা কংক্রিটের মেঝেতে জমে থাকা জেদি শ্যাওলা বা মস পরিষ্কার করার জন্য জল দিয়ে পাতলা করা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এই ব্লিচ দ্রবণ নিমেষেই শ্যাওলা, অ্যালগি ও লাইকেন ধ্বংস করে দেয়। তবে ব্লিচিং ব্যবহারের আগে অবশ্যই জলের সঙ্গে মিশিয়ে তা ভালো করে পাতলা করে নেওয়া দরকার। সাধারণত এক ভাগ ব্লিচিং পাউদারের সঙ্গে চার থেকে পাঁচ ভাগ জল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে।

তারপর শ্যাওলা ধরা নির্দিষ্ট জায়গায় সেই মিশ্রণটি ভালোভাবে লাগিয়ে কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করুন। এর পর একটি শক্ত ব্রাশ বা নারকেল ঝাঁটা দিয়ে সামান্য ঘষে জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে এই কাজটি করার সময় অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরে নেওয়া উচিত। খেয়াল রাখবেন, ব্লিচ যেন কোনোভাবেই চোখ বা ত্বকে না লাগে এবং আশপাশে থাকা গাছপালার ওপর যেন এই শক্তিশালী দ্রবণ না পড়ে। বিশেষ সতর্কতা হিসেবে, ব্লিচের সঙ্গে ভুলেও অন্য কোনো পরিষ্কার করার রাসায়নিক বা অ্যাসিড মেশাবেন না, তাতে অত্যন্ত বিপজ্জনক গ্যাস তৈরি হতে পারে।

শুধু শ্যাওলা তুললেই কি কাজ শেষ? শ্যাওলা পরিষ্কার করার পরেও যদি একই জায়গায় বারবার জল জমতে থাকে, তবে এই সমস্যা কিন্তু আবার ফিরে আসবে। তাই ছাদ বা উঠোনে জল জমছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা দরকার। বাড়ির নিকাশির মুখ বন্ধ থাকলে দ্রুত তা পরিষ্কার করে ফেলুন। যেখানেই সম্ভব, জায়গাটি যতটা সম্ভব শুকনো রাখুন। কারণ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশই হলো শ্যাওলা দ্রুত বেড়ে ওঠার প্রধান কারণ।

তাই রবি ঘোষের ‘গল্প হলেও সত্যি’-র ধনঞ্জয়ের মতো নারকেলের মালা হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘষার দিন আর নেই। আমাদের বলে দেওয়া এই সহজ পদ্ধতিগুলি ট্রাই করে দেখুন। উঠোন হোক বা বাড়ির ছাদ, একটু যত্ন নিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে কালো শ্যাওলার সেই বিপজ্জনক পিচ্ছিল আস্তরণ আর আপনার ঘরের ত্রিসীমানাতেও ঘেঁষতে পারবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *