ক্যান্সারের মতো ছড়াচ্ছে রিল বানানোর ভূত! চলমান ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে যুবকরা, কড়া অ্যাকশনে পুলিশ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’মিনিটের একটুখানি রিল বা ভিডিও ভাইরাল করার অন্ধ নেশা বর্তমানে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়ানক চিত্র সামনে এল বিহারে। লাইক ও কমেন্টের লোভে কিছু তরুণ ও কিশোর এখন হামেশাই নিশানা বানাচ্ছে দেশের আধুনিক ও হাই-স্পিড ট্রেনগুলিকে। রাজধানী, বন্দে ভারত, তেজস কিংবা জন শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো চলন্ত ট্রেনে নির্বিচারে পাথর ছুড়ে রিল বানানোর জঘন্য প্রবণতা এখন রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক মস্ত বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১২টি জেলা চিহ্নিত করেছে পুলিশ

বিহার পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে এমন ১২টি সংবেদনশীল জেলাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে মূলত এই ধরনের ট্রেন পাথরবাজির ঘটনাগুলি সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে রাজধানী পাটনা সহ ভোজপুর, সমস্তিপুর, বেগুসরাই, বেতিয়া, মধুবনী, মুजफ्फरপুর, নালন্দা, সারণ, গয়া, বৈশালী এবং নওয়াদা। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে এবং ছুটির দিনগুলিতে—শনি ও রবিবারে এই ধরনের হঠকারী কার্যকলাপের মাত্রা সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে।

মাত্র ৫ দিনে গ্রেপ্তার ১৩৪ জন

রেল পুলিশ এবং জিআরপি (GRP)-র যৌথ উদ্যোগে চালানো এক বিশেষ অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যে, ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার নেপথ্যে রয়েছে শুধুই রিল বানানোর খামখেয়ালিপনা। হাই-স্পিড ট্রেনগুলিতে থাকা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ মাত্র ৫ দিনের মধ্যে মোট ১৩৪ জন রিলবাজকে গ্রেপ্তার করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ধৃতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনই নাবালক!

কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রশাসনের

যাত্রীদের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই বিপজ্জনক প্রবণতা রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। চিহ্নিত ১২টি জেলার প্রতিটি স্পর্শকাতর পয়েন্টে আরপিএফ (RPF) এবং জিআরপি-র টহলদারি ও নজরদারি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং যাত্রীদের জীবন বিপন্ন করার মতো গুরুতর অপরাধে দোষীদের জন্য ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত জেলের সংস্থান রয়েছে। রিল বানানোর এই মারাত্মক নেশা আটকাতে পুলিশ এখন কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *