রাস্তার বুক চিরে বইছে খরস্রোতা নদী! বাংলা-ঝাড়খণ্ড যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই চরম দুর্ভোগ তুঙ্গে!

পাহাড়ী নদীর জলের তোড়ে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। রাজ্য সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে খরস্রোতা গুমানি নদীর জল বয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপত্তার খাতিরে রাস্তার দু’দিকে ব্যারিকেড দিয়ে সমস্ত ধরনের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পরিস্থিতি? মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের নিশিন্দ্রা কাটান এলাকায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় আটকে পড়েছে পাথর ও এনটিপিসি-র ছাইবোঝাই অসংখ্য লরি। যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও ব্যাহত হয়েছে, যার জেরে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বড় ধরণের সংকট তৈরি হয়েছে ফরাক্কা এলাকায়। পাশাপাশি, যাতায়াত বন্ধ থাকায় স্কুলমুখী কচিকাঁচারাও ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না।
ফরাক্কা ব্লকের বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, নদীর জলস্তর কমলেই তবে রাস্তা পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।
বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ: স্থানীয়দের ক্ষোভ, এই সমস্যা নতুন নয়; গত ৩০-৩৫ বছর ধরে বর্ষ এলেই এই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাঁদের। ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টি হলেই গুমানি নদীর জলের তোড়ে বাংলা-ঝাড়খণ্ডের যোগাযোগের এই সড়কটি ভেসে যায়। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় জলের তোড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি জমি যেমন প্লাবিত হয়েছে, তেমনই ফরাক্কা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অ্যাশ পণ্ড বা ছাই পুকুরও জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে। স্থায়ী সংস্কারের দাবি তুলে এখন প্রশাসনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা।