কুষ্ঠরোগী বলে স্কুলে ঢুকতে দিত না! আজ সেই বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে ইতিহাস গড়লেন কোন মাস্টারমশাই?

সমাজের চোখে একসময় যাঁরা ছিলেন সম্পূর্ণ উপেক্ষিত ও ব্রাত্য, সেই কুষ্ঠরোগাক্রান্ত পরিবারের শিশুদের জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে যিনি আজ এক জীবন্ত কিংবদন্তি, তিনি হলেন আসানসোলের বার্নপুরের নিরঞ্জন সরদার। শিক্ষক দিবসের বিশেষ দিনে কুষ্ঠপল্লীর সেই বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনার কারিগর নিরঞ্জন মাস্টারের লড়াইয়ের গল্প আজ অনুপ্রেরণা জোগায় গোটা রাজ্যকে।

অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরার লড়াই: আটের ও নয়ের দশকে কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে সাধারণ মানুষ কুষ্ঠরোগী ও তাঁদের পরিবারকে সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখত। ফলে অন্য শিশুদের সঙ্গে সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেত না কুষ্ঠপল্লীর শিশুরা। সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বার্নপুরের কাঁকড়ডাঙা কুষ্ঠপল্লীতে লড়াই শুরু করেন স্বয়ং কুষ্ঠ আক্রান্ত নিরঞ্জন সরদার। প্রথমে গাছের তলায় এবং পরবর্তীকালে নিজের প্রচেষ্টায় কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করে সেখানে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন তিনি।

ছোট দোকান চালিয়ে ব্রাত্যদের ভবিষ্যৎ গঠন: বর্তমানে যুগ বদলেছে, কুসংস্কার কিছুটা কমলেও নিরঞ্জন মাস্টারের সেই স্কুল আজও সমানভাবে চলছে। প্রতিদিন সকালে প্রায় ২২ জন শিশুকে বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা দিচ্ছেন তিনি। এমনকি ইসকোর সাহায্য কুষ্ঠপল্লীতে একটি ফ্রি কম্পিউটার সেন্টারও চালু করেছেন তিনি, যাতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে সেখানকার খুদেরা। নিজের এক চিলতে ছোট দোকান চালিয়ে এবং পুরনিগমের সামান্য ভাতার ওপর নির্ভর করে নিজের সংসার চালালেও, শিশুদের পড়ানোর নেশা ও ভালোবাসার বশে আজও একটানা কাজ করে চলেছেন এই শিক্ষক। তাঁর হাত ধরে বহু পড়ুয়া আজ সমাজে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠিত। নিরঞ্জন মাস্টারের এই নিরলস সংগ্রামই প্রমাণ করে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করেও অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *