শুধুমাত্র সুদ দিতে না পারায় তরুণীকে অপহরণ করে বিবস্ত্র করে মারধর! বেঙ্গালুরুর ঘটনায় থ দেশবাসী!

ঋণ ও সুদের টাকা সময়মতো মেটাতে না পারায় এক তরুণীকে অপহরণ করে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর এবং সেই চরম লাঞ্ছনার ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠল। এই লোমহর্ষক ও নারকীয় ঘটনায় দুই নারী সহ মোট তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যথাসময়ে পুলিশের দ্রুত তৎপরতার ফলেই একটি গোপন আস্তানা থেকে নির্যাতিতাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দু’বছর আগে রেশমা বানু নামে এক মহিলার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন ওই তরুণী। পরবর্তীতে রেশমার মাধ্যমেই নজহত নামে অন্য এক মহিলার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। কিন্তু আর্থিক সংকটের জেরে গত ছয় মাস ধরে সুদের টাকা মেটাতে পারেননি এবং বন্ধ ছিল মূল কিস্তিও। পাওনাদারদের লাগাতার চাপ এড়াতে তিনি বাধ্য হয়ে রেশমার ফোন নম্বর ব্লক করে মায়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? অভিযোগ, টাকা আদায়ের জন্য এক ভয়ংকর ফাঁদ পাতে অভিযুক্তরা। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নজহত ওই তরুণীকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান। সরল বিশ্বাসে সেখানে পৌঁছতেই তাঁর ওপর চড়াও হন রেশমা এবং তাঁর স্বামী সুহেল। এরপর ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে কুম্বালগোদুর একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আটকে রেখে তাঁর ওপর চলে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। জোর করে তাঁর পোশাক খুলে আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করে অভিযুক্তরা এবং হুমকি দেয় যে, অবিলম্বে বকেয়া টাকা না মেটালে ওই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
পুলিশের তৎপরতা ও উদ্ধার: এদিকে মেয়ে দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় চরম আশঙ্কায় পড়েন নির্যাতিতার মা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্রা লেআউট থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে ময়দানে নামে পুলিশ। মোবাইল টাওয়ার ও অন্যান্য সূত্র ধরে তল্লাশি চালিয়ে সেই গোপন আস্তানার সন্ধান পায় তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই নির্যাতিতাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণ, শ্লীলতাহানি, শারীরিক নিগ্রহ এবং ব্ল্যাকমেলিংয়ের মতো একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।