হ্রদের জল বাড়তেই লোকালয়ে হানা! কেন কেন্ট্রিজে শুরু হয়েছে মেগা ক্রোকোডাইল হান্ট?

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হু হু করে বাড়ছে কেনিয়ার হ্রদের জলের স্তর। গত অর্ধশতকে এমন নজিরবিহীন জলস্তর বৃদ্ধি দেখা যায়নি। আর এর ফলেই চরম বিপাকে পড়েছেন কেনিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা। হ্রদের জল প্লাবিত হয়ে মানুষের বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ায় কুমিরের মতো ভয়ঙ্কর জলচর প্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সংঘাত চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (KWS)-এর পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান।

কেন বাড়ছে কুমিরের উপদ্রব? কেনিয়ার রিফট ভ্যালিতে অবস্থিত লেক বারিংও (Lake Baringo)-র জলস্তর চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কুমিরগুলো তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসছে। কেইডব্লিউএস (KWS)-এর ওয়াইল্ডলাইফ ভেটেরিনারি ডক্টর ডমিনিক মিজেলে (Dominic Mijele) জানিয়েছেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কুমিরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানো যায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।” জলের মধ্যে বিশেষ ট্র্যাপ নেট (trap net) এবং মাংসের টোপ ব্যবহার করে এই বিশাল আকারের কুমিরগুলোকে নিরাপদে ধরার কাজ চলছে।

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা: হ্রদের পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, এই কুমিরের উপদ্রবে তাঁদের জীবন ও জীবিকা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক মাছ বিক্রেতা ডোরকাস কিপলাঘাট (Dorcas Kiplagat) এএফপি-কে জানিয়েছেন, “কুমিরগুলো আমাদের ভীষণভাবে সমস্যায় ফেলেছে। তারা আমাদের গবাদি পশু মেরে ফেলছে, বাচ্চাদের ওপর আক্রমণ করছে। সম্প্রতি একটি কুমির মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুকে টেনে নিয়ে চলে গেছে।”

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব কীভাবে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, কেনিয়ার এই ঘটনা তারই এক জলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *