এক বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ২৪২৬টি সরকারি স্কুল! মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে সরাসরি চিঠি দিয়ে তোপ জিতু পাটোয়ারীর

এক বছরে মধ্যপ্রদেশে সরকারি স্কুল বন্ধ বা মার্জ (একীভূত) হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে রাজ্যে মোট ২,৪২৬টি সরকারি স্কুল বন্ধ অথবা অন্য স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারী। একে স্রেফ কোনো চিঠি নয়, বরং একটি ‘প্রশ্নপত্র’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
শিক্ষক বাড়ল, অথচ স্কুল কমল কেন? চিঠিতে জিতু পাটোয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, প্রতি বছর মধ্যপ্রদেশে স্কুল শিক্ষার বাজেট বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শিক্ষার মান উন্নত করার বড় বড় দাবি করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যে মোট ১,২২,১২০টি স্কুল ছিল, যা ২০২৫-২৬ এ কমে দাঁড়িয়েছে ১,১৯,৬৯৪টিতে। অর্থাৎ এক বছরে ২,৪২৬টি স্কুল কমেছে। অথচ অবাক করা বিষয় হলো, এই একই সময়ে রাজ্যে শিক্ষকের সংখ্যা ৬৮২,৪9২ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৯২,৮২০ জন।
কংগ্রেসের প্রধান দাবি ও প্রশ্নসমূহ:
-
জেলা ও ব্লক ভিত্তিক তথ্য প্রকাশ: বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলির জেলা এবং ব্লক ওয়ারি সম্পূর্ণ তালিকা জনসমক্ষে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
-
শিক্ষার্থীদের বিকল্প যাতায়াত: যেসব এলাকায় স্কুল বন্ধ বা মার্জ করা হয়েছে, সেখানে কোমলমতি শিশুদের যাতায়াতের জন্য সাইকেল, বাস বা নিরাপদ পরিবহনের কী ব্যবস্থা করেছে সরকার?
-
সম্পত্তির ব্যবহার: বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলির পুরনো ভবন, জমি, আসবাবপত্র এবং ল্যাবরেটরিগুলি বর্তমানে কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার হিসাব চেয়েছে কংগ্রেস।
-
সামাজিক অডিট (Social Audit): আগামী তিন বছর যাতে আর কোনো সরকারি স্কুল বন্ধ বা মার্জ করা না হয়, সেই দাবি তোলার পাশাপাশি প্রতিটি বন্ধ স্কুলের একটি নিরপেক্ষ ‘সোশ্যাল অডিট’ বা সামাজিক নিরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন জিতু পাটোয়ারী।