‘আমি মাথা ফাটিয়েছি, পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না!’ অভিযুক্তের খোলাখুলি স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় দেশ

দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ককরোচ জনতা পার্টির এক সদস্যের বাবার মাথায় মারাত্মক আঘাত হেনেও কীভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি পার পেয়ে গিয়েছেন, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে এখন গোটা দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

সামাজিক মাধ্যমে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে এক ব্যক্তি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। নিজেকে হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি ভিডিওতে দাবি করেন, সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিশু আজাদের বাবার মাথায় ধাতব বালা দিয়ে আঘাত করে তিনি নিজেই মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনার কথা থাকলেও, কোনো এক প্রভাবশালী নেতার ফোন পাওয়ার কারণে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার তো দূরঅস্ত, সহজেই ছেড়ে দেয় বলে দাবি করেন তিনি। গোটা রাত তিনি নাকি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন—এমন কথাও দম্ভভরে বলতে শোনা যায় তাঁকে।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। যদিও পুলিশের দাবি, আইন মেনেই এই গোটা ঘটনার তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।

নিশু আজাদ ও সিজেপির ক্ষোভ

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিশু আজাদ একটি পাল্টা ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হলেও ন্যায়বিচার মিলছে না। এমতাবস্থায় তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকেও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলা হয়েছে যে, অপরাধী নিজেই প্রকাশ্যে অপরাধ স্বীকার করা সত্ত্বেও পুলিশ উপযুক্ত ধারা বা কঠোর পদক্ষেপ করতে গড়িমসি করছে।

এই ঘটনায় রাহুল গান্ধী, সকেত গোখলে, অখিলেশ যাদব সহ একাধিক বিরোধী নেতা এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধীদের সুরক্ষার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। সব মিলিয়ে, এই চাঞ্চল্যকর ভিডিও এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় রাজনীতি এখন উত্তাল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *