‘অনেক টাকা কামিয়েছ, এবার কি গুটখা খাবে?’ শাহরুখ-অজয়-টাইগারকে নিয়ে বিস্ফোরক ‘শক্তিমান’!

পানমশলা ও গুটখার বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়ার জেরে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সম্প্রতি নোটিশ পাঠিয়েছে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান, অজয় দেবগণ এবং টাইগার শ্রফকে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সবাই যখন মুখ খুলছেন, ঠিক তখনই সরাসরি তারকাদের নিশানা করলেন ‘শক্তিমান’ খ্যাত প্রবীণ অভিনেতা মুকেশ খান্না। তাঁর কড়া ভাষায় করা মন্তব্য এখন গোটা বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
কেন ক্ষুব্ধ মুকেশ খান্না?
মহারাষ্ট্র প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানালেও মুকেশ খান্না আক্ষেপের সুরে বলেছেন যে এই পদক্ষেপ করতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। কারণ এর মধ্যে দীর্ঘ তিন বছর ধরে এই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনগুলি থেকে মোটা টাকা পকেটস্থ করে ফেলেছেন শাহরুখ, অজয় ও টাইগাররা।
বিশেষ করে বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ‘কেশরী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে চরম আপত্তি তুলেছেন মুকেশ। তাঁর প্রশ্ন, যে শব্দটি সাহস এবং লড়াইয়ের প্রতীক, তাকে কীভাবে এমন একটি ক্ষতিকর নেশাদ্রব্যের প্রচারে ব্যবহার করা যেতে পারে? এই ধরনের বিজ্ঞাপন দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং শিশুদের মনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তিনি।
তারকাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন
সেলিব্রেটিদের শুধু অভিনেতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে, কারণ সাধারণ মানুষ তাঁদের অন্ধের মতো অনুসরণ করেন। ফলে কোনো তারকা যখন তামাক বা সুপারিযুক্ত পানমশলার প্রচার করেন, তখন সমাজের চোখে সেই পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়ে যায়। এই জায়গাতেই তীব্র কটাক্ষ করে মুকেশ খান্না প্রশ্ন তোলেন— “এত টাকা কামানোর পরও কি গুটখা খাওয়া বাকি রয়েছে?”
এর আগে অমিতাভ বচ্চন এবং অক্ষয় কুমারের মতো তারকারাও এই ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম সারির নায়কদের বারবার এমন বিজ্ঞাপনে মুখ দেখানো নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই থাকছে। বিজ্ঞাপনে যেগুলিকে ‘সুপারি-ভিত্তিক’ বা তামাকমুক্ত বলে দাবি করা হলেও, একই ব্র্যান্ডের মূল সংস্থার সঙ্গে তামাকজাত পণ্যের যোগসূত্র থাকায় বিতর্ক থামার কোনো নাম নেই।
মুকেশ খান্নার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ফের একবার উসকে দিয়েছে সেই পুরোনো বিতর্ক— কোটি কোটি টাকার লোভে কি তবে নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ভুলে যাচ্ছেন সেলেবরা?