আরজি কর কাণ্ডে ধৃত প্রাক্তন পুরপ্রধানকে লক্ষ্য করে সরাসরি ডিমবৃষ্টি! আদালত চত্বরে তীব্র উত্তেজনা, তেড়ে এল জনতা

আরজি কর-কাণ্ডে প্রমাণ লোপাট ও পরিবারের অনুমতি ছাড়া নির্যাতিতার দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ধৃত পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে’কে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ব্যারাকপুর আদালত চত্বর। শুক্রবার খড়দা থানা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে আদালতে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে বলে অভিযোগ। এমনকী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অভিযুক্তের দিকে তেড়ে যান অনেকে। পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি করের চিকিৎসক খুনের ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সোমনাথ দে। বেঙ্গালুরুর একটি হোটেলে আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খড়দা থানার একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে এবং ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে ফিরিয়ে আনে। তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট আরজি কর-কাণ্ডের দু’বছর পূরণের দিন নির্যাতিতার স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ব্যারাকপুরের কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কীভাবে এবং কার মদতে পরিবারের অনুমতি ছাড়াই তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করা হয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে। এরপরই ১০ আগস্ট নির্যাতিতার বাবা খড়দা থানায় নির্মল ঘোষ ও সোমনাথ দে-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত এফআইআর দায়ের করেন।

অভিযোগ ছিল, তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পুরপ্রধান সোমনাথ দে নির্যাতিতার দেহ সৎকার করার সময় অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করেছিলেন। এই মামলার অন্য অভিযুক্ত নির্মল ঘোষকে গত মাসে ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হলেও এতদিন অধরা ছিলেন সোমনাথ। শুক্রবার তাঁকে আদালতের তোলার সময় তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পুলিশি নিরাপত্তায় কড়া পাহারার মাধ্যমেই তাঁকে এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *