মাথার উপর মৃত্যুর পরোয়ানা! সমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দেশে ফেরার আগে ঠিক কী শর্ত রাখলেন শেখ হাসিনা?

মাথার উপর ঝুলছে মৃত্যুদণ্ডের রায়। তা সত্ত্বেও মাতৃভূমিতে ফেরার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তিনি ফিরতে চান এবং যেকোনো আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। তবে তাঁর সাফ কথা, বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হবে এবং তা কোনোভাবেই পূর্বনির্ধারিত রায় ভিত্তিক হতে পারবে না।

কী ধরনের নিশ্চয়তা চাইছেন হাসিনা? সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি কোনো শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশে ফিরবেন? উত্তরে হাসিনা জানান, তিনি এমন কিছু আশা করেন না যা অস্বাভাবিক, বরং সংবিধান ও আইন অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের যা মৌলিক অধিকার—যেমন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, আইনজীবীর সহায়তা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা—সেটুকুই তাঁর কাম্য। তিনি বলেন, “সরকার যদি বলে ফিরে আসুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন, তবে আমি বলব আমি ফিরে আসতে প্রস্তুত। কিন্তু বিচারের অর্থ হতে হবে প্রকৃত বিচার—পূর্বনির্ধারিত কোনো শাস্তি নয়।”

গোপন সমঝোতা ও প্রত্যর্পণ নিয়ে অবস্থান: দেশের বাইরে কাটানো বিগত প্রায় দু’বছরের সময়কালে আওয়ামী লিগের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চলা রাজনৈতিক নিপীড়নের তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জোরালোভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার কিংবা বিএনপির সঙ্গে কোনো রকম গোপন সমঝোতার পথে তিনি হাঁটবেন না।

ভারত থেকে তাঁর প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাসিনা জানান, ভারত একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তারা এই বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া মেনেই দেখছে। এটি ভারতের নিজস্ব দেখার বিষয়। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি আমার একান্তই নিজস্ব রাজনৈতিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। ভারত বন্ধুরাষ্ট্র হলেও বাংলাদেশই আমার মাতৃভূমি। আমি অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের বাইরে থাকতে পারি না।” তবে তাঁর সঙ্গে দলের অন্য নেতারা কবে এবং কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে তিনি জানান যে এটি একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যা সময়মতো বিবেচনা করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *