কম খরচে আকাশ দখলের মাস্টারপ্ল্যান! চিন থেকে যুদ্ধবিমান কেনায় কি সত্যিই ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি?

বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ‘জে-টেন সি ই’ (J-10CE) মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে যে যুদ্ধবিমান দিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছিল, সেই একই মডেলের বিমান এবার যুক্ত হতে চলেছে বাংলাদেশের বহরে। কিন্তু এই অস্ত্র সংগ্রহের ফলে বাংলাদেশের সামরিক শক্তিতে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং এর নেপথ্যেই বা সুবিধা-অসুবিধা কী কী রয়েছে?

কী বিশেষত্ব এই যুদ্ধবিমানের? সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমানগুলি বহুমুখী বা ‘মাল্টিরোল’ হওয়ায় একই সঙ্গে আকাশ রক্ষা, শত্রুঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ, সেনাকে সহায়তা এবং সমুদ্রপথে নজরদারির কাজ করতে সক্ষম। অতীতে বাংলাদেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মিগ-২১ এবং পরবর্তীতে চীন থেকে এফ-৭ বা রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ কিনলেও, বর্তমান সময়ের ফোর পয়েন্ট ফাইভ-জি (4.5-G) প্রযুক্তির যুদ্ধের নিরিখে সেগুলি যথেষ্ট পুরনো হয়ে পড়েছে। তাই এই নতুন সংযোজন বিমানবাহিনীকে অনেকটাই শক্তিশালী করবে।

চিন নির্ভরতার কারণ ও সুবিধা: বাংলাদেশ কেন প্রধানত চিনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে, তার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব কারণ। প্রথমত, পশ্চিমা দেশগুলির মতো চিনা অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে কোনো রকম কঠিন শর্ত বা নজরদারির ঝামেলা থাকে না। দ্বিতীয়ত, ইউরোপ বা আমেরিকার সমমানের যুদ্ধবিমানের তুলনায় চিনা বিমানগুলির দাম অর্ধেকেরও কম বা এক-তৃতীয়াংশ। পাশাপাশি, ভারত বা মিয়ানমার মূলত রাশিয়ান যুদ্ধবিমান ব্যবহার করায়, বাংলাদেশের চিনা প্রযুক্তির ব্যবহার কৌশলগতভাবে এক আলাদা সুবিধা দিতে পারে।

অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ: তবে শুধু যুদ্ধবিমান কিনলেই কি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যুদ্ধবিমান সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কংক্রিট শেল্টার, স্বাধীন সামরিক এয়ারফিল্ড এবং শক্তিশালী রাডার নেটওয়ার্কের মতো অবকাঠামোগত প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানের বহু এয়ারফিল্ড বেসামরিক বিমানের সঙ্গে ভাগাভাগি হওয়ায় এবং নিজস্ব হার্ড শেল্টারের ঘাটতি থাকায় এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলির সুরক্ষা ও পরিচালনা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার, এই পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাকে কতটা দুর্ভেদ্য করে তুলতে পারে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *