পুজোর আগে বাইক কেনার প্ল্যান আছে? শোরুমে পা রাখার আগে এই মারাত্মক নিয়ম না জানলেই বড় বিপদে পড়বেন!

পুজোর মরসুমে মোটরসাইকেলের বিক্রি এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। আর সেই সুযোগেই যাতে কোনও ধরনের বেআইনি কারবার বা অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার বাইকের শোরুমগুলিতে কড়া নজরদারি শুরু করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিবহণ দফতর। সম্প্রতি তমলুকের মানিকতলা এলাকার একাধিক বাইকের শোরুমে আচমকা অভিযান চালান জেলা আরটিও সঞ্জয় হালদার এবং এআরটিও-সহ পরিবহণ দফতরের একাধিক আধিকারিক।
আচমকা অভিযানের কারণ কী?
পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, জেলার কয়েকটি বাইকের শোরুমের বিরুদ্ধে আগেই কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগ ছিল, কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নম্বর প্লেট ছাড়াই মোটরসাইকেল বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই ক্রেতাদের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে আসে।
এই ধরনের অনিয়ম রুখতে আগেই শোরুম মালিকদের সতর্ক করেছিল প্রশাসন। সরকারি নির্দেশিকা মেনেই যাতে সমস্ত গাড়ি বিক্রি করা হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ বাস্তবে কতটা মানা হচ্ছে, তা হাতেনাতে যাচাই করতেই এ দিনের এই ঝটিকা অভিযান।
শোরুমে কী খতিয়ে দেখলেন আধিকারিকরা?
এ দিন তমলুকের মানিকতলা এলাকার বিভিন্ন শোরুমে ঢুকে বিক্রির সমস্ত নথিপত্র, ক্রেতাদের বৈধ কাগজপত্র এবং মোটরসাইকেল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। জেলা আরটিও সঞ্জয় হালদার জানান, “আগেই শোরুম মালিকদের সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। এ দিন সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতেই আমরা এসেছিলাম।” তবে প্রাথমিক অভিযানে ওই তিনটি শোরুমের সমস্ত নিয়ম ঠিকঠাক পাওয়া গেছে এবং বড় ধরনের কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি।
প্রশাসনের কড়া বার্তা
পুজোর বাজারে বাইক বিক্রির হিড়িক বাড়ায় নজরদারি এখানেই শেষ হচ্ছে না। পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী দিনেও জেলার অন্যান্য বাইকের শোরুমগুলিতে এই ধরনের আচমকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিদর্শনের সময় যদি কোনও শোরুমে সামান্যতম অনিয়ম বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই পুজোর আগে বাইক কেনার কথা ভাবলে নিয়ম মেনেই এগোতে হবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই।