বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বাসভবনে দেড় কোটি! ছাত্রছাত্রীদের হাসপাতাল-হোস্টেল বেহাল, ফুঁসে উঠল ফোরাম

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সরকারি বাসভবন ‘পূর্বিতা’-র সংস্কার ও আধুনিকীকরণে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার বেশি। অথচ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত এই ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ ক্যাম্পাসে ছাত্রাবাস, পানীয় জল, নিকাশি, ক্যান্টিন ও গবেষণাগারের পরিকাঠামো বেহাল। এই বৈপরীত্য তুলে ধরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছে তফশিলি জাতি, উপজাতি ও সংখ্যালঘু ফোরাম।
বডি (মূল ঘটনা ও খরচের বিবরণ):
বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের বাসভবন সংস্কারে কেন্দ্রীয় পূর্ত বিভাগের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
-
বাসভবন সংস্কার ও আধুনিকীকরণে খরচ: ৭৪ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা
-
আসবাবপত্র, পর্দা, এয়ারকন্ডিশনে খরচ: ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা
-
সিনিয়র অফিসার কোয়ার্টার, সীমানা প্রাচীর ও আধুনিক রান্নাঘরে খরচ: ৪২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা
-
বিদ্যুৎ সংযোগ ও আলোকসজ্জায় খরচ: ১০ লক্ষ ৮৬ হাজার ৭৭৬ টাকা
-
পরিকল্পনা বাবদ জমা দেওয়া অতিরিক্ত: ৫ লক্ষ ৫ হাজার ৬০২ টাকা
অর্থাৎ, নতুন নির্মাণ নয়—শুধু পুরনো বাসভবন সংস্কার করতেই দেড় কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য:
তফশিলি জাতি, উপজাতি ও সংখ্যালঘু ফোরামের সভাপতি বৈদ্যনাথ সাহা বলেন, “রবীন্দ্রনাথ বিন্দু বিন্দু করে সংগ্রহ করে বিশ্বভারতী গড়েছেন। আজ পড়ুয়াদের হোস্টেল বেহাল, নেই পানীয় জল, নেই নিকাশি। অথচ উপাচার্যের বিলাসে কোটি কোটি টাকা। এই টাকা শিক্ষার মান উন্নয়নে খরচ করা উচিত ছিল।”
এসএফআই-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌভিক দাস বক্সী আরও সরব হন। তিনি বলেন, “উপাচার্য নিজের বাসভবনে এসি, মড্যুলার কিচেন বসাচ্ছেন। বিশ্বভারতীকে কেন্দ্রীয় সরকার নিজের জমিদারি ভেবে নিয়েছে। আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”
শিক্ষক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া:
বিশ্বভারতী অধ্যাপক সংগঠন (ভিবিইউএফএ)-এর সভাপতি তথাগত চৌধুরী বলেন, “এটি গুরুতর অভিযোগ। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছি।”
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের জবাব:
ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “সরকারি অনুমোদন নিয়েই সব কাজ হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বিশ্বভারতীর সম্পত্তি। তাই প্রশ্ন থাকতে পারে না। দ্বিতীয়ত, আমরা এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো চিঠি পাইনি।”
পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ:
উল্লেখ্য, বিশ্বভারতী বর্তমানে ইউনেস্কো-ঘোষিত ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ মর্যাদাপ্রাপ্ত একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—
-
ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের বেহাল দশা
-
পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাব
-
সঠিক নিকাশি ব্যবস্থা নেই
-
ক্যান্টিনের খাবারের মান নিম্ন
-
লাইব্রেরি, ল্যাব, গবেষণা পরিকাঠামো ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের অভাবে পড়ুয়ারা ভোগেন
এই সব সমস্যা থাকলেও কর্তৃপক্ষ সেগুলোতে নজর না দিয়ে উপাচার্যের বাসভবন সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবক মহলে।
পরবর্তী করণীয়:
ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফোরামের দাবি, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদন্ত হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।