‘স্রষ্টা ছিলেন ঋষি অরবিন্দ’ – যাদবপুরের নাম বদলের ডাক শর্বরীর, পাশে রাহুল সিনহাও

বৃহস্পতিবার হরিপদ ভারতী স্মৃতি রক্ষা সমিতি আয়োজিত এক বেদ পাঠ ও জাতীয়তাবাদী অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণাসেন মঞ্চে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহাও।

শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঋষি অরবিন্দের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বাঙালি মেধার বিকাশ ঘটানোর যে লক্ষ্য নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম প্রধান পুরোধা ছিলেন ঋষি অরবিন্দ। তাই তাঁর নামেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন বিধায়ক।

শুধু প্রস্তাবেই থামছেন না শর্বরী। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সে সংক্রান্ত আবেদন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজন পড়লে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও এই আবেদন জানানো হবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “অনেক রাষ্ট্রবাদী মানুষ মনে করছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ঋষি অরবিন্দের নামে হওয়াই উচিত।”

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সাম্প্রতিক দেওয়াল লিখন নিয়ে সরব হন শর্বরী। তাঁর মতে, যাদবপুরে বারবার দেওয়াল লিখন হচ্ছে এবং তা মুছে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু এরপরেও যদি আবার রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য লেখা হয়, তা হলে সেই দেওয়াল আবার সাদা করা হবে। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “যতবার রাষ্ট্রবিরোধী কথা দেওয়ালে লেখা হবে, ততবার দেওয়াল হোয়াইটওয়াশ হবে। ততবার আমরা রাষ্ট্রবাদের পক্ষের কথা লিখব।” পাশাপাশি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সর্বস্তরে প্রচেষ্টা চালানো হবে বলেও জানান তিনি।

যাদবপুরের আশেপাশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ‘রাষ্ট্রবাদী’ চেতনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি শর্বরীর। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরের মানুষও এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছেন। “আমি রাষ্ট্রবাদের পক্ষে ছিলাম, আছি, আমৃত্যু থাকব” – এই স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। এদিন তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরে রাষ্ট্রবাদ দিচ্ছে ডাক, লেনিন-স্ট্যালিন-মাও-হোচিমিন নিপাত যাক।” যাদবপুরের মাটিকে তিনি ‘রাষ্ট্রবাদের ঘাঁটি’ বলেও অভিহিত করেন।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে আরও কঠোর ভাষায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হিটলার, মুসোলিনি এবং আরএসএসকে লক্ষ্য করে দেওয়াল লিখন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনওভাবেই মাওবাদী, নকশালবাদী এবং ভারতবিরোধী শক্তিকে ডেরা গাড়তে দেওয়া হবে না।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি মুখে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বললেও বাস্তবে সেই অবস্থান কার্যকর করেননি; বরং তলায় তলায় মাওবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

রাহুল সিনহা আরও বলেন, “বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি নয়। আমাদের কাছে বিজেপির চেয়েও আগে হচ্ছে ভারতমাতা।” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও ঐতিহ্য কোনওভাবেই ‘খারাপ’ হতে দেওয়া হবে না বলে দাবি করেন তিনি। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল, বন্দে মাতরম স্লোগান এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “একটা একটাকে এখান থেকে বার করে খালি করব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কোনও মাওবাদ, নকশালবাদ বাঁচাতে পারবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *