“অভিষেকের নির্দেশেই চুরি!” ক্যামাক স্ট্রিটে হামলা ও রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত জল গড়ানোর পর বিস্ফোরক বিজেপি

কলকাতা তথা রাজ্য রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। বৃহস্পতিবার ভোরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল দুষ্কৃতী অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা উল্লেখ করে সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিজেপির পালটা আক্রমণ ও চাঞ্চল্যকর দাবি
তৃণমূলের রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধী দল বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেছেন, একসময় বিজেপি রাজ্যপালের কাছে গেলে তৃণমূল উপহাস করত, আজ পরিস্থিতি বদলাতেই তাদের একই পথ ধরতে হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন যে, প্রমাণ লোপাট করতেই এই চুরির নাটক সাজানো হয়েছে এবং এটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় একে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল বলেই মন্তব্য করেছেন।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও আইনি লড়াই
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন যে, গত চার মাস ধরে পুলিশ প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করছে এবং শাসকদলের কর্মীদের নিশানা করা হচ্ছে। ভোরবেলার এই হামলার সময় বারবার ফোন করা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় দু’ঘণ্টা কোনো সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ তুলেছে দল। এই পরিস্থিতিতে বাংলার উদ্বেগজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে অনড় রয়েছে তৃণমূল শিবির।