বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট – অ্যাংজাইটি নাকি হার্ট অ্যাটাক? জেনে নিন পার্থক্য

হঠাৎ বুক ধড়ফড় শুরু হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, বুক ভারী লাগলে বা মাথা ঘুরলে অনেকেই ভয়ে কাঁপতে থাকেন। মনে হয় – এটা কি শুধু অ্যাংজাইটি বা প্যানিক অ্যাটাক, নাকি আসলে হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে? দুই ক্ষেত্রেই উপসর্গ প্রায় একই রকম দেখা যায় বলে বিভ্রান্তি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট পরামর্শ – সন্দেহ হলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
অ্যাংজাইটি বা প্যানিক অ্যাটাকের সময় হঠাৎ তীব্র ভয়, অস্থিরতা বা ‘কিছু একটা খারাপ হতে যাচ্ছে’ এমন অনুভূতি জেগে ওঠে। সঙ্গে বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ বা ব্যথা, ঘাম, শ্বাসকষ্ট, মাথা হালকা লাগা বা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। সাধারণত উপসর্গগুলো খুব দ্রুত তীব্র হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে আসে।
অন্যদিকে হার্ট অ্যাটাকে বুকের মাঝখানে চাপ, চেপে ধরা বা ভারী লাগার মতো অস্বস্তি হয়। এটা কয়েক মিনিট ধরে থাকতে পারে, আবার কমে গিয়ে আবার শুরু হতে পারে। ব্যথা বা অস্বস্তি এক বা দুই হাতে, পিঠে, ঘাড়ে, চোয়ালে বা পেটেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরাও থাকতে পারে।
মহিলাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব বা পিঠ, কাঁধ ও চোয়ালে ব্যথা হতে পারে। এগুলোকে গ্যাস বা অ্যাংজাইটি ভেবে উড়িয়ে দিলে বিপদ হতে পারে।
শুধু উপসর্গ দেখে বাড়িতে বসে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় যে এটা অ্যাংজাইটি নাকি হার্ট অ্যাটাক। নতুন করে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা বা শরীরের উপরের অংশে ব্যথা হলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন। সন্দেহ থাকলেও অপেক্ষা করবেন না। হার্ট অ্যাটাকে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করাই জীবন বাঁচাতে পারে।
বুকের কোনো উপসর্গকে নিজের মতো করে ‘শুধু অ্যাংজাইটি’ বলে ধরে না নিয়ে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।