নদীর গ্রাসে বাঁধের বিরাট অংশ! গঙ্গার ভয়ংকর ভাঙন রুখতে দিনরাত এক করে লড়ছে জলসম্পদ দফতর

প্রকৃতির রুদ্ররোষে ফের বড় বিপদের মুখে একাধিক এলাকা। নবগাছিয়ার রাঘোপুর নরকটিয়া বাঁধের নোজ বা অগ্রভাগের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি শংকরপুর পুরনো রেললাইন বাঁধেও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এবং বাঁধ টিকিয়ে রাখতে দিনরাত এক করে রাতারাতি ডেরা ফেলে মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জলসম্পদ দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা।
কী পরিস্থিতি বর্তমান এলাকায়? প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাঙনকবলিত এলাকায় ইতিমধ্যেই তীর সুরক্ষা বা এজ প্রোটেকশনের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন সেই ভাঙা অংশ আরও মজবুত করার কাজ চলছে জোরকদমে। দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যাওয়া শ্রমিকদের একাংশের দাবি, বর্তমান প্রচেষ্টায় বাঁধটিকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। তবে পুরোপুরি স্বস্তি এখনো মেলেনি। এই অঞ্চল দিয়ে আগামী দিনে প্রায় ৫ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিশেষজ্ঞদের।
বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণের বন্দোবস্ত: উত্তরপ্রদেশের বলিয়া জেলায় গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার প্রায় দুই মিটার উপর দিয়ে বইছে। যার জেরে জেলার প্রায় ৪৫টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। নৌরঙ্গা গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বন্যা ত্রাণ চৌকি খোলা হয়েছে। পাশাপাশি ‘জার্মান হ্যাঙ্গার টেন্ট’-এর মাধ্যমে মডেল ত্রাণ শিবির তৈরি করে বিপন্ন মানুষের হাতে খাবার ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসক এবং সেচ দফতরের আধিকারিকরা পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন।