‘বাঁচাও আমাকে’! শুটিংয়ের ফাঁকে উৎপল দত্তকে সত্যিই কুমিরের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার?

পেশাদার সংবাদ সম্পাদক হিসেবে ডেইলিহান্ট (Dailyhunt)-এর প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে, পাঠকের কৌতূহল ও এনগেজমেন্ট বজায় রেখে সংবাদটি পুনর্লিখন করা হলো:
ভাইরাল শিরোনামসমূহ (Dailyhunt স্পেশ্যাল)
-
‘বাঁচাও আমাকে’! শুটিংয়ের ফাঁকে উৎপল দত্তকে সত্যিই কুমিরের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার?
-
ফলস মারামারি করতে পারতেন না উত্তম! ‘অমানুষ’-এর সেটে কোন কাণ্ড ঘটিয়ে উৎপল দত্তকে আঁতকে তুলেছিলেন তিনি?
-
উত্তমদার আসল মার খেয়ে ভয়ে কাঁটা উৎপল দত্ত! সুন্দরবনের সেই শুটিংয়ের অজানা গল্প ফাঁস
‘বাঁচাও আমাকে…’! সুন্দরবনে ‘অমানুষ’-এর শুটিংয়ে উৎপল দত্তকে কুমিরের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন উত্তমকুমার?
নিজস্ব সংবাদদাতা: পরিচালক শক্তি সামন্তের মেগা হিট ছবি ‘অমানুষ’-এর শুটিং তখন চলছে জোরকদমে। মুম্বইয়ের আন্ধেরি থেকে শুরু করে সুন্দরবনের খাঁড়িতেও চলেছে ছবির আউটডোর শ্যুটিং। ছবিতে একটি বিশেষ দৃশ্য ছিল যেখানে ‘মধু’ অর্থাৎ উত্তমকুমার বেধড়ক মারধর করবেন উৎপল দত্তকে। আর সেই শুটিংয়ের নেপথ্যেই ঘটেছিল এক রোমহর্ষক ও মজার ঘটনা, যা খোদ পরিচালক প্রভাত রায় তাঁর ‘ক্ল্যাপস্টিক’ আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছেন।
মারপিটের দৃশ্যে নট-ফেক উত্তমকুমার! প্রভাত রায় তখন ছিলেন শক্তি সামন্তের প্রধান সহকারী পরিচালক এবং উত্তমের অন্ধ ভক্ত। তিনি তাঁর বইতে লিখেছেন, মহানায়ক উত্তমকুমার মারপিটের দৃশ্যে কখনোই মেকি বা ফলস অভিনয় করতে পারতেন না! অর্থাৎ, ফাইটিংয়ের দৃশ্যে তিনি একদম সত্যি সত্যিই হাত চালাতেন। ‘অমানুষ’ ছবিতে নৌকার ওপর বন্দুকের বাট দিয়ে উৎপল দত্তকে মারার দৃশ্য আসার পর থেকেই তৈরি হয় আসল আতঙ্ক।
দৃশ্যটি নিয়ে উৎপল দত্ত ফাইট মাস্টার শেঠিকে আগে থেকেই সতর্ক করে বলেছিলেন, জলে দু’-তিনজনকে স্ট্যান্ডবাই রাখতে, কারণ উত্তম কোনোদিন ফলস মার মারবেন না—সত্যি সত্যিই তাঁকে জলে ফেলে দেবেন এবং সুন্দরবনের কুমির তাঁকে গিলে খাবে! যদিও উত্তমকুমার তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন যে তিনি একদম মুখের সামনে দিয়ে মারবেন, গায়ে লাগবে না।
‘আরেকটা টেক হলে কুমিরে আর ছাড়বে না!’ এরপর শ্যুটিং শুরু হতেই ‘অ্যাকশন’ শুনেই উত্তমকুমার হাত চালান এবং শব্দ হতেই সবাই দেখতে পান উৎপল দত্ত সরাসরি জলে ছিটকে পড়েছেন! জল থেকেই চিৎকার করে ওঠেন উৎপল দত্ত— “বাঁচাও আমাকে!”
সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে উত্তমকুমার বলেন, “সরি, সরি, সরি শক্তিদা। আরেকটা টেক করুন। এবার আর লাগবে না।” উত্তমের সেই কথা শুনে আঁতকে ওঠেন উৎপল দত্ত। পরিচালকের উদ্দেশ্যে তিনি কাতরভাবে বলে ওঠেন, “আর না শক্তিবাবু! অনেক হয়েছে। কুমিরগুলো এবার জাস্ট ছেড়ে দিয়েছে, নেক্সট টাইম জলে পড়লে আর আস্ত রাখবে না!”
সুন্দরবনের খাঁড়িতে কুখ্যাত মানুষখেকো কুমিরের ভয় আর মহানায়কের মারমুখী মেজাজের সেই অদ্ভুত রসায়ন আজও টলিপাড়ার অন্যতম সেরা ও রোমাঞ্চকর এক স্মৃতি হয়ে রয়েছে।