সকালের উৎসব নিমেষে রূপ নিল কান্নায়! শেয়ার বাজারের এই আকস্মিক ধস কোথা থেকে এল?

হস্পতিবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক অচিন্তিতপূর্ব রক্তক্ষয়ী পতন দেখা গেল। দিনের শুরুতে বাজার বেশ চাঙ্গা থাকলেও ঠিক শেষ মুহূর্তে ঘটে গেল বড় বিপত্তি। তেলের চড়া দাম এবং বন্ড ইল্ডের ওঠানামার জেরে নিমেষের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেল বিনিয়োগকারীদের সমস্ত লাভ। মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার কারবারে লহমায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি মূলধন খুইয়ে বসেছেন বিনিয়োগকারীরা।

সপ্তাহের শেষ লেনদেনের শুরুতে চিত্রটা সম্পূর্ণ অন্য রকম ছিল। দেশের শক্তিশালী অর্থনীতি এবং পজিটিভ মনোভাবের জেরে সকালের দিকে সেনসেক্স প্রায় ৭৭ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছে যায় এবং ৩৫০ পয়েন্টের বেশি লাভ দেখায়। কিন্তু দুপুরের পর থেকেই মেঘ জমতে শুরু করে। বিশেষ করে বাজার বন্ধ হওয়ার ঠিক ১৫ মিনিট আগে থেকে শুরু হয় হুড়মুড় করে পতন। যার ফলে দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সেনসেক্স প্রায় ৭৭১ পয়েন্ট এবং নিফটি প্রায় ১৫০ পয়েন্টের বেশি পিছিয়ে যায়।

দিনের শেষে বিএসই (BSE) সেনসেক্স ৪১৭ পয়েন্ট বা প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে ৭৬,১৫৩ পয়েন্টে এসে ঠেকে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ৪১ পয়েন্ট বা প্রায় ০.১৭ শতাংশ কমে ২৩,৮৭৩ পয়েন্টে বন্ধ হয়। বাজার বন্ধের এই আকস্মিক ঝড়ে টাইটান, ট্রেন্ট, আইটিসি, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, বাজাজ ফিনসার্ভ এবং এইচসিএল টেকনোলজির মতো হেভিওয়েট স্টকগুলির দর প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। পাশাপাশি টেক মাহিন্দ্রা, সান ফার্মা, টিসিএস এবং মারুতি সুজুকির মতো বড় কোম্পানির শেয়ারেও ১ শতাংশের বেশি পতন লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই বড় ধসের মাঝেও অ্যাক্সিস ব্যাংক এবং আদানি পোর্টসের শেয়ার সামান্য হলেও সবুজ জোনে ছিল।

সবচেয়ে বড় আঘাত এসে পড়েছে লগ্নিকারীদের পকেটে। দিনের শুরুতে যখন সেনসেক্স তার সর্বকালীন বা দিনের সর্বোচ্চ শিখরে ছিল, তখন বিএসই-র মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৪ কোটি ৯২ লক্ষ কোটি টাকায়। কিন্তু বাজার বন্ধ হওয়ার সময় তা কমে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮৭ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বা প্রায় ৩৪৫ মিনিটের ব্রেকথ্রু ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের চোখের পলকে প্রায় ৪ লক্ষ ৯৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রধান সূচকগুলিতে বড় ধস নামলেও ছোট ও মাঝারি বা স্মল-মিডক্যাপ শেয়ারে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, যা আগামী দিনে বাজার কোন দিকে মোড় নেবে, সেই নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *