আইন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো এক্তিয়ার নেই বার কাউন্সিলের! সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে স্বস্তি

আইন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো আইনি অধিকার বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI) বা স্টেট বার কাউন্সিলগুলির নেই। বৃহস্পতিবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিল যে, এই ধরনের বিষয়ে একমাত্র সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা তার নির্ধারিত কর্তৃপক্ষই ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনা সমন্বিত তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।

মামলার পটভূমি ও বিতর্ক: হায়দরাবাদের বিখ্যাত নালসার (NALSAR) আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন একদল পড়ুয়া। এই ঘটনার জেরে গত ১৩ আগস্ট বার কাউন্সিল একাধিক শাস্তিমূলক নির্দেশ জারি করেছিল। এমনকি বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মানন কুমার মিশ্র রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, প্রতিবাদী ওই পড়ুয়াদের যেন আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত (Enrolment) না করা হয়।

যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আর কোনো পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। কিন্তু এই একতরফা নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ১৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার শুনানিতে বার কাউন্সিলের ভূমিকার সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া থেকেই পরিষ্কার যে বড় ধরনের ভুল হয়ে গিয়েছিল, যা পরে সংশোধন করা হয়েছে।”

সুপ্রিম কোর্টের মূল পর্যবেক্ষণ ও আইনগত ব্যাখ্যা: আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, Advocate Act, 1961-এর অধীনে আইনজীবী হিসেবে সরকারিভাবে নথিভুক্ত হওয়ার আগে কোনো আইন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা বিসিআই-এর নেই।

মামলায় পড়ুয়াদের পক্ষে সওয়াল করা সিনিয়র আইনজীবী কে পরমেশ্বর যুক্তি দেন যে, এই বিষয়টি কেবল কিছু পড়ুয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নয়, বরং এর সঙ্গে ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অন্যদিকে, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বলেন, কোনো পড়ুয়া যদি এমন কোনো গুরুতর অপরাধ করেন যা পরবর্তীতে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে অযোগ্য করে তুলতে পারে, তবে সেই বিষয়টি নথিভুক্তির সময় বার কাউন্সিল যাচাই করতেই পারে। তবে পড়াশোনা চলাকালীন একজন ছাত্রের উপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করার এক্তিয়ার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই স্পষ্ট রায়ে আইন পড়ুয়াদের বড় একটা অংশের স্বস্তি মিলল বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *